ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ১ জুন শুরু হচ্ছে নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০ দলের এ বৈশ্বিক আসর সামনে রেখে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের হোম সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। আজ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে এ সিরিজ। চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ, পরের দুটি ঢাকায়।
এ সিরিজে কোন দল ফেভারিট সে প্রশ্ন আসছে। ২০২২ সালে দুই দলের সর্বশেষ সিরিজটা ২-১-এ জিতেছে জিম্বাবুয়ে। সেই হিসেবে অবশ্য সফরকারীদের ফেভারিট ভাবার সুযোগ নেই। কেননা ওই সিরিজটা ছিল জিম্বাবুয়ের মাটিতে। আবার সিকান্দার রাজার দলকে ছোট করে দেখার অবকাশও নেই।
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারা জিম্বাবুয়ে নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া। তারা ২০২২ সালের মতোই এবার বাংলাদেশের মাটিতে এ সিরিজে ভালো করতে চাইবে। বলা বাহুল্য, ২০২২ সালেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করে জিম্বাবুইয়ানরা। তারা বাংলাদেশকে ওয়ানডে সিরিজেও হারিয়েছে। যদিও ২০০১ সালের পর বাংলাদেশের মাঠে কখনই সাদা বলের সিরিজ জিততে পারেনি। স্বাগতিকদের জন্য এ সিরিজটা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মঞ্চ। যদিও এ সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে শীর্ষ তারকা সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান নেই। সাকিব সদ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছেন। তাকে ভ্রমণজনিত কারণে ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলার জন্য প্রথম তিন ম্যাচের জন্য ছুটি দিয়েছে বোর্ড। মুস্তাফিজ আইপিএল মিশন শেষ করে গতকাল দেশে ফিরলেও তিনি প্রথম তিন ম্যাচের জন্য বিশ্রাম পাচ্ছেন। এ দুই তারকা খেলবেন শেষ দুটি ম্যাচ।
যারা স্কোয়াডে আছেন তাদের মধ্যে লিটন দাস রানে ফিরতে মরিয়া। রানখরায় শ্রীলংকার সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজের শেষ দিকে তো বাদই পড়েন। বিশ্বকাপ সামনে রেখে তিনি রানে ফিরতে মরিয়া। এদিকে টি-টোয়েন্টি দলে নবাগত তানজিদ হাসান তামিমও বিশ্বকাপের আগে এ ফরম্যাটে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইবেন জিম্বাবুয়ে সিরিজে। সৌম্য সরকার এখনো চোট থেকে সেরে ওঠার মধ্যে আছেন বলে ওপেনিংয়ের পজিশনটি নেয়ার সুযোগ আছে তানজিদের। সিলেটে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৩৪ বলে ৬৮ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলা জাকের আলীও চাইবেন বিশ্বকাপের আগে জ্বলে উঠতে।
বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে ভালো খেলে জাতীয় দলে ফিরেছেন পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। পিঠের ইনজুরির কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি দলের বাইরে ছিলেন। এ সিরিজে ভালো করলে বিশ্বকাপের দুয়ারও খুলে যাবে নিশ্চয়ই।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের মূল স্পিনার হিসেবে থাকবেন সাকিব। তার পাশাপাশি দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে কে থাকবেন, সেটি এ সিরিজ থেকে অনেকটাই নির্ধারণ হয়ে যাবে। এজন্য লড়বেন মেহেদী হাসান ও তানভীর ইসলাম। আবার স্পিনিং অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেনও চাইবেন ব্যাটে ঝড় অব্যাহত রাখতে।
২০২৩ সালটি টি-টোয়েন্টিতে দারুণ কাটে বাংলাদেশের। গত মার্চে সিলেটে অনুষ্ঠিত সিরিজে শ্রীলংকার কাছে হেরে সেই জয়রথ থামে। যদিও সিলেটে সিরিজে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। প্রথম ম্যাচে অল্প ব্যবধানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশ জিতে নেয়। নুয়ান তুষারার আগুনে বোলিংয়ের মুখে তৃতীয় ম্যাচে আবার হেরে যায় টাইগাররা। নাজমুল হোসেন শান্তর দলের এ সিরিজেই প্রমাণ করতে হবে, চাপের মুহূর্তে তারা ভেঙে পড়তে নারাজ।
সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজটা জিম্বাবুয়ে জিতলেও দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচটি জিতেছে বাংলাদেশ। গত বছর অক্টোবরে ব্রিসবেনে বিশ্বকাপ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৩ রানে হারায় সাকিব আল হাসানের দল। ৫৫ বলে ৭১ রান করেছিলেন বর্তমান দলনায়ক নাজমুল হোসেন।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারতেই সিরিজটা খেলছে বাংলাদেশ। যদিও জিম্বাবুয়ের জন্য এটা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সিরিজ নয়। তারা এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উত্তীর্ণই হতে পারেনি। বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে ভারতের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে জিম্বাবুয়ে। সেই চ্যালেঞ্জ নেয়ার আগে বাংলাদেশে ভালো খেলতে চাইবেন সিকান্দার রাজারা।
১৫ দিন ধরে মাঝারি তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত গোটা বাংলাদেশ। সুখবর হলো আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এমনকি টি-টোয়েন্টি সিরিজের কিছু অংশ পণ্ড হওয়ার ঝুঁকিও থাকছে। আগামী সপ্তাহে ঢাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যখন ঢাকায় শেষ দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে।










