মিরসরাই উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। তাও সেটি দ্বিতীয় শ্রেণীর। তাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। অবশেষে মিরসরাই উপজেলায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রথম শ্রেণীর আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। স্টেশনটি নির্মাণ করা হচ্ছে পৌরসভা বারইয়ারহাটে। ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে নার্স, অ্যাম্বুলেন্স, ডুবুরিসহ সব ধরনের সুবিধা থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের জন্য মাত্র একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন রয়েছে। তাও সেটি দ্বিতীয় শ্রেণীর। উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি প্রথম শ্রেণীর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌরসভায় নির্মিত হচ্ছে প্রথম শ্রেণীর এ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসদর থেকে ১৫০ মিটার দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে প্রায় ৫০ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে প্রথম শ্রেণীর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি। এতে থাকবে নার্স, অ্যাম্বুলেন্স ও ডুবুরিসহ সব ধরনের সুবিধা।

স্থানীয়রা জানান, মিরসরাইয়ে সম্পদ ও জনসংখ্যার বিবেচনায় একটি প্রথম শ্রেণীর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মিরসরাইয়ে স্টেশন রোডে যে ফায়ার সার্ভিসটি রয়েছে সেটি দ্বিতীয় শ্রেণীর। ফলে সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল উপজেলাবাসী। বারইয়ারহাটে প্রথম শ্রেণীর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপিত হলে উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে তারা।

সরেজমিন প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়, ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলছে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ। ভবনের আস্তরেরও কাজ। সড়ক নির্মাণের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে প্রকল্পটির সংযোগ সড়কে বালি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আজিজুল ইসলাম জানান, মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাটে নির্মিত এটি প্রথম শ্রেণীর আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। এ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে সব ধরনের সুবিধা থাকবে। আশা করা হচ্ছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগ চট্টগ্রাম-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম জানান, কার্যাদেশে প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।