বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান এ বক্তব্য দেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবির আহমদ। আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিম প্রমুখ।

দেশে দুর্নীতির চিত্র নিয়ে মির্জা ফখরুল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘আগে যারা ঘুস খেত, তারা ঘুস খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে। একইভাবে যারা ভালো একটা কাজ আটকে দিত, তারা এখনো তা আটকে দিচ্ছে। লোকজন ভোল পাল্টাচ্ছে। ভোল পাল্টানো লোকজনই এখন অনেক বেশি জুলাই যোদ্ধা হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, এত হতাশার মধ্যেও তিনি আশাবাদী এ কারণে যে তিনি পরিবর্তন দেখছেন একজন মানুষের মধ্যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির মহাসচিবের সেই আক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেছেন, তাদের (বিএনপি) একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, পাঁচ মাসের এ সরকারের সময় দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি; বরং বেড়েছে। সেই নেতার ভাষায়, তারেক রহমান ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান না, তার পরও সবাই দুর্নীতি করে কীভাবে? তার ইশারায় সবকিছু চলে, তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন? এ ‘দায় স্বীকার’ করার পর সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।

চাঁদাবাজির জন্যও বিএনপিকে দায়ী করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার চেষ্টা করছে এটাকে কিছু নিচে নামিয়ে আনার। মানে এইটার মাধ্যমে দ্বিতীয় দফা চাঁদাবাজিকে জাতীয় সনদ বা স্বীকৃতি দেয়া হলো। এক কোটি–দেড় কোটি মানুষকে তারা চাকরি দেবেন, তাই না? অনেকে বলে যে চাকরি তো দিয়েই দিয়েছেন, আর দেয়া লাগবে কেন? টেম্পোস্ট্যান্ডের চাকরি...এই চাকরি তো আমাদের জনগণ চায় না, এই চাকরিকে এই দেশের জনগণ ঘৃণা করে।’

শ্রমিক ফেডারেশনের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবহন শ্রমিকদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির অভিযোগও করেন শফিকুর রহমান। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের চাওয়ার বিপরীতে চললে জামায়াত কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। জামায়াত কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে তা বরদাশত করা হবে না বলেও সরকারকে হুঁশিয়ার করেন জামায়াত আমির। এককভাবে কেউ যেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি না করে, সে আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অভ্যুত্থান কারো একার নয়। শহীদেরাও কারো দলীয় সম্পদ নয়, তারা জাতির সম্পদ।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান দেয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আহত, পঙ্গুরা এখনো কষ্টে কাতরাচ্ছেন। অনেকে কাজকর্ম করতে পারেন না। তাদের যেভাবে স্বীকৃতি ও সম্মান দেখানো উচিত, সেটা দেখানো হচ্ছে না। অবশ্যই জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে।’

সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘চাঁদাবাজমুক্ত পরিবহন সেক্টর করতে হলে চাঁদাবাজমুক্ত নেতৃত্ব করতে হবে। নেতৃত্ব চাঁদাবাজ না হলে চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব হবে।’