যশোরে বেশির ভাগ করাতকলের লাইসেন্স নেই। বন বিভাগের তালিকা অনুযায়ী এ জেলায় প্রায় দেড়শ অবৈধ করাতকল রয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে উপজেলাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে অবৈধ করাতকল বন্ধে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু অবৈধ এসব করাতকলে আগের মতোই কাঠ চেরাই চলছে। এতে সরকারের রাজস্ব হাতছাড়াসহ হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।
সামাজিক বন বিভাগ যশোরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র মতে, জেলার আট উপজেলায় ১৪৬টি অবৈধ করাতকল রয়েছে। এর মধ্যে যশোর সদরে ১৫, শার্শায় ২৪, চৌগাছায় ১৬, ঝিকরগাছায় ১৭, অভয়নগরে ১৪, বাঘারপাড়ায় ৮, মণিরামপুরে ৪০ ও কেশবপুরে রয়েছে ১২টি অবৈধ করাতকল। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে যশোর বন বিভাগ গেল বছরের ২৯ নভেম্বর তালিকা তৈরি করে সেগুলো বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পত্র দিয়েছে। একই সঙ্গে এসব অবৈধ করাতকলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
সরেজমিনে যশোর শহরের পুরনো কসবার ‘স্ট্যান্ডার্ড স’ মিলে গিয়ে দেখা গেছে, অবৈধ এ করাতকলটিতে অবাধে কাঠ চেরাই চলছে। সামনে ছোটবড় অসংখ্য গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। শ্রমিকরা সেই কাঠ নিয়ে করাতকলে চেরাই করছেন। এ মিলের সামনে সরকারি স্থাপনা রয়েছে। আশপাশে রয়েছে আবাসিক এলাকা। নিয়ম অনুযায়ী করাতকলটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই অনুমোদনের জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুতের পুনঃসংযোগ দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে ওজোপাডিকো যশোরের বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিম বলেন, আমার জানা মতে তারা তো বৈধতা পেয়েছে। এজন্য পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।
সদরের রূপদিয়ার মুনসেফপুর (দিয়াপাড়া) এলাকার সততা স মিল চালু রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্সের জন্য বন বিভাগে আবেদন করেনি। আবার তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নও করা হয়নি। এভাবে যশোর সদরের ১৫টি অবৈধ করাতকলেই কাঠ চেরাই চলছে। প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে অবৈধ মিল বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি বন বিভাগের।
যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন বলেন, বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সামাজিক বন বিভাগ যশোরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, অবৈধ করাতকল বন্ধে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া বন্ধ করা সম্ভব না। জেলা প্রশাসনের আগামী মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি ফের উত্থাপন করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান জানান, বন বিভাগের তালিকা অনুযায়ী অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।









