রাঙ্গামাটির লংগদু থেকে উদ্ধার করা হিমালয়ান গন্ধগোকুল (পাহাড়ি ভাম) পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। আজ রোববার দুপুরে উল্টাছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির প্রাণীটিকে অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে লংগদু উপজেলার উত্তর ইয়ারাংছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। এদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি ও উদ্ধারস্থল থেকে অভয়ারণ্যের দূরত্বের কারণে প্রাণীটিকে অবমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
উল্টাছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির বলেন, শনিবার উত্তর ইয়ারাংছড়ি থেকে হিমালয়ান গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করা হয়। রোববার দুপুরে পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে। অবমুক্তের সময় প্রাণীটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল।
পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল বলেন, হিমালয়ান গন্ধগোকুল পাহাড়ি ভাম নামেও পরিচিত। আইইউসিএন বাংলাদেশের লাল তালিকা অনুযায়ী প্রজাতিটি বিপন্নতার ঝুঁকিতে। দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মিশ্র চিরসবুজ বন এদের প্রধান আবাসস্থল।
তিনি বলেন, বন ধ্বংস ও শিকারের কারণে গত এক দশকে এ প্রজাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বীজ ছড়ানোর মাধ্যমে বনজ পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নিশাচর এ প্রাণী। সাধারণত সন্ধ্যার পর খাবারের সন্ধানে বের হয় এবং দিনের বেশিরভাগ সময় গাছের উঁচু ডালে বিশ্রাম নেয়।
রাঙ্গামাটি অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল সরকার বলেন, প্রাণীটির অবস্থান জানার পর স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তাকে উদ্ধারের নির্দেশ দেয়া হয়। উদ্ধারের পর একদিন নিরাপদে রাখার পর পাবলাখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে এটি অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাবলাখালী দেশের অন্যতম বড় সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সেখানে হিমালয়ান গন্ধগোকুলটি প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরাপদে থাকার সুযোগ পাবে।










