বরিশালে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। গতকাল নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়। দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান।

এদিকে প্রথম দিন বরিশালের প্রতিটি ট্রাক সেলে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্রি শুরুর পর থেকেই ট্রাক সেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দুপুরের পর পেঁয়াজ ক্রেতাদের ভিড় আরো বাড়তে থাকে। পরে নারী-পুরুষ পৃথক সারি করে পেঁয়াজ বিক্রি করেন ডিলাররা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল দুপুর থেকে নগরীর জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর, নগর ভবনের সামনে, জজকোর্ট চত্বর, চৌমাথা বাজার ও আমতলার মোড় এলাকায় ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেন ডিলাররা।

নগরীরর কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা তৈয়ব আলী বলেন, খোলা বাজারে এখনো ১৫০-১৮০ টাকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এ দামে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য পেঁয়াজ কেনা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

টিসিবি ডিলার মো. মাসুদ রানা জানান, টিসিবি থেকে প্রত্যেক ডিলারকে এক টন করে পেঁয়াজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ৪৫ টাকা কেজি দরে জনপ্রতি এক কেজি করে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। টিসিবি যতদিন পেঁয়াজ সরবরাহ করবে, ততদিন তারা ক্রেতাদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবেন।

তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে এখনো ১২০-১৩০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে সকালে ১৫০-১৮০ টাকায় কেজিপ্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হয়। তবে গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে অনেক বাজারে ১৬০ টাকায়ও প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়।

টিসিবি বরিশালের অফিস প্রধান মো. আনিছুর রহমান জানান, খোলা বাজারে বিক্রির জন্য প্রথম চালানে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ১০ টন পেঁয়াজ বরিশাল এসেছে। আরো পেঁয়াজ আসবে। কেন্দ্র থেকে যতদিন পেঁয়াজ সরবরাহ করা হবে, ততদিন ভোক্তাদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম চালাবে স্থানীয় টিসিবি। খোলা বাজারে বিক্রির ফলে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।