ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া মোড়ে অবস্থিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালের এপ্রিলে যাত্রার পর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ চক্ষু রোগী হাসপাতালটি থেকে সেবা নিয়েছেন। বিনা মূল্যে কিংবা ক্ষেত্রবিশেষ নামমাত্র মূল্যে জটিল চক্ষু রোগের উন্নত চিকিৎসা সেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের ভরাস্থলে পরিণত হয়েছে হাসপাতালটি। প্রতিদিন এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন আশপাশের অন্তত ২২টি জেলার হাজারো রোগী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর থেকে পাঁচ লাখ রোগী এখান থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে রেটিনা, নেত্রনালি, অকুলোপ্লাস্টি, গ্লুকোমা, কর্নিয়া, শিশু চক্ষু রোগ, ছানি অপারেশন, চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীদের রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং, ফ্যাকো সার্জারি ও বিনা মূল্যে চশমাসহ লেন্স প্রদান করা হয়। এখন পর্যন্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে অপারেশন করা হয়েছে ১৫ হাজার রোগীর। ক্যাম্পের মাধ্যমে রোগী দেখা হয়েছে ২৪ হাজার ৫০০ জন। ক্যাম্পে অপারেশন করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ রোগীর।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সাইট সেভার্স, অরবিস, ভারতের অরবিন্দ আই কেয়ার ইনস্টিটিউট, পিকেএসএফ ও রিকের সহযোগিতায় এখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে বিনা মূল্যে চক্ষু পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরামর্শ, অপারেশন ও লেন্স সংযোজন করাসহ সব ধরনের সেবা দেয়া হয়। এছাড়া রয়েছে ব্রেস্ট ফিডিং, ডে কেয়ার কর্নার, চিলড্রেন প্লেয়িং জোন, মেডিটেশন রুম, নামাজ ও প্রার্থনা। চক্ষু সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এমএলওপি কোর্স, বিসিপিএস কোর্স এবং লেজার ট্রিটমেন্ট কোর্স চালু হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
গোপালগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, গোপালগঞ্জের মাটিতে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিয়ে চক্ষু রিসার্স সেন্টার স্থাপন এবং চক্ষু রোগীরা যাতে বিদেশমুখী না হয়, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া মহাদেশের একটি অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত লাভ করাই আমাদের স্বপ্ন। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।









