রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-ডেমরা রোডে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের সামনে সংঘর্ষে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের শরীরে লাঠিপেটা ও মারধরের দাগ রয়েছে। সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ হয় বলে আহতরা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আহত শিক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গীরা জানান, রোববার ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এতে অনেকেই আহত হন। এর প্রতিবাদে সোমবার ওই দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে গেলে সেখানকার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে আহতদের সঙ্গীরা জানিয়েছেন। এছাড়াও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাজীব (১৯), শাহেদুল ইসলাম (২০); কবি নজরুল সরকারি কলেজের অনুপম দাস (২৩), রানা (২০), সুমন (২২), মারুফ হোসেন (১৯), হাসিনুর রহমান (১৯), আরাফাত হোসেন (১৯); সলিমুল্লাহ কলেজের মোহাম্মদ রুমান (১৯); এবং ইম্পেরিয়াল কলেজের হুমায়ুন কবির (২০)।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আহতরা এখন আশঙ্কামুক্ত। তাদের চিকিৎসা চলছে।
আহত অনুপম দাস বলেন, ‘আমরা কলেজের শিক্ষকদের কাছে বিচার চাইতে গিয়েছিলাম যে কেন তারা আমাদের কলেজে হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করার আগেই ওই কলেজের ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমি এবং আরো ৩০-৩৫ জন আহত হয়েছি। আমি হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করছি।’
আহত মারুফ হোসেন বলেন, ‘আমরা মারামারি করতে যাইনি। আমরা শুধু জানতে চেয়েছিলাম, কেন তারা আমাদের কলেজে এসে ভাঙচুর করল। কিন্তু তারা আমাদের ওপরই আবার হামলা চালায়। এমনকি শিক্ষকরাও তাদের থামানোর চেষ্টা করেননি। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের বিচার চাই।’
আহত রুমান বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে কলেজে গিয়েছিলাম। এভাবে হামলার শিকার হব ভাবতেও পারিনি।’










