চট্টগ্রামের একটি বাসা গ্যারেজে থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ১০ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ( ২৫ নভেম্বর) পশ্চিম খুলশী এক নম্বর রোডে অবস্থিত রোজ ভ্যালির হাছান টাওয়ার থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয়। গাড়িটির বর্তমান মালিকপক্ষের দাবি, ২০১৬ সালে নিশান পেট্রোল হিসেবে বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন নেয়া হয়। গাড়িটির নম্বর হলো— ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৫-২৩২৪। যদিও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে এই আমদানির কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ নেই।
এরই প্রেক্ষিতে বিআরটিএ কার্যালয়ে চিঠি দিয়ে জরুরিভিত্তিতে তথ্য চায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের কার্যালয়। বিআরটিএ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৫-২৩২৪ নম্বর মোটরযানের মূল নথি খুঁজে না পাওয়ায় উক্ত মোটরযানটির ছায়ালিপি এ মুহূর্তে প্রেরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
গাড়ির মালিক মোহাম্মদ ওসমান সওদাগর বিদেশে অবস্থান করায় তার অবর্তমানে কাস্টমস গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন ওসমান সওদাগরের বন্ধু জানে আলম।
তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গাড়িটি দুই বছর আগে প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে। ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে বিআরটিএ থেকে সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে নথি হালনাগাদও হয়েছে। এখন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন এ গাড়ির বিপরীতে কোনো শুল্ক-কর পরিশোধ করা হয়নি। এটাতে আমাদের অপরাধ কোথায়? ক্রয়ের ক্ষেত্রে আমরা হলাম চতুর্থ পক্ষ। আমাদের সঙ্গে তো আমদানি পর্যায়ে শুল্ক দেয়ার কোনো ইস্যু নেই। যারা শুল্ক দেয়নি তাদেরকে ধরুক এনবিআর।”
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬০০ সিসির নিশান জিপ গাড়িটির গায়ে লেখা ‘নিশান পেট্রোল’। নিশান পেট্রোল হিসেবে ২০১৬ সালে বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন নেয়া হয়েছে। কিন্তু গাড়ির চেসিস নাম্বার দিয়ে অনলাইনে সার্চ করা হলে দেখায়, গাড়িটি ‘নিশান সাফারি’ ব্র্যান্ডের। সাফারি ব্র্যান্ড হলো পেট্রোল থেকে আরও উন্নতমানের গাড়ি। এখানে বিআরটিএতে কোনো জালিয়াতি হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মিনহাজ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গাড়িটির বিল অব এন্ট্রি, চেসিস নাম্বারসহ অন্যান্য আমদানির কাগজ চেয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে চিঠি দিয়েছিলাম। কাস্টম হাউস আমাদের নিশ্চিত করেছে এই আমদানির কোনো নথি নেই। যদিও অ্যাসাইকুডায় প্রতিটি গাড়ির বিল অব এন্ট্রি ও চেসিস নাম্বার দেয়া বাধ্যতামূলক। এখানে বড় ধরনের জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। তাই আজ (সোমবার) অভিযান পরিচালনা করছি।”
ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চ শুল্ক এড়িয়ে বিদেশ থেকে পার্টস হিসেবে আমদানি করে দেশে এনে সংযোজন করা হতে পারে গাড়িটি। ২০১৬ সালে গাড়িটি বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন নেয়া হলেও অ্যাসাইকুডায় আমদানির তথ্য নেই।










