প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় গতকাল বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে ‘বাংলাদেশে কার্যকর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জলবায়ু প্রক্ষেপণ ও জলোচ্ছ্বাস মডেলিং’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং-৩ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম।
জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প (টিএপিপি) ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য ক্যাপাসিটি অব ওয়েদার অ্যান্ড ক্লাইমেট সার্ভিসেস’-এর আওতায় জুলাইয়ে যৌথভাবে একাধিক সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ওই প্রশিক্ষণে জাপান আবহাওয়া সংস্থার মেটিওরোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. আকিহিকো মুরাতা ও ড. নাদাও কোহ্নো অংশগ্রহণ করে বিএমডি কর্মকর্তাদের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেন।
গবেষণা ও নতুন পূর্বাভাসের মূল দিকগুলো: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়বে; বর্ষা মৌসুম শুরুর পরও তীব্র ও ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা যেতে পারে; শীতকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ঘন কুয়াশার প্রবণতা বাড়বে; নতুন মডেলের মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা, পরিবর্তনের ধারা এবং সম্ভাব্য প্লাবিত এলাকার আগাম নিখুঁত তথ্য পাওয়া যাবে; সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা প্রতিদিন আরো সঠিকভাবে পূর্বাভাস প্রদান সম্ভব হবে।
সেমিনারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে জাইকার সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। —আইএসপিআর










