একই সঙ্গে রোগটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত স্ক্রিনিং ও সচেতনতা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নতুন স্বাস্থ্যকর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘রক্তদাতা সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি (বিটিএস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এমএ মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘দেশজুড়ে থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য জন্মগত এবং বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষদের একটি ডেটাবেজ প্রস্তুত করার পথে এগিয়ে যাওয়া এবং একটি রেজিস্টার মেইনটেইন করা প্রয়োজন। থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধাদের শতভাগ সুস্থ করতে না পারলেও তাদের ও তাদের পরিবারের প্রতি সান্ত্বনা, সহমর্মিতা ও আশ্বাসের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।’

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা ও আগাম শনাক্তকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বাকালেও স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এটি শনাক্ত করা সম্ভব। যেকোনো বয়সে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে রোগটি ধরা পড়ে। এ কারণে সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে।’

নতুন এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সময় তাদের থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়ার প্রস্তাব করেন ডা. জুবাইদা। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগটির উপসর্গ, চিকিৎসা এবং আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে।’

শনাক্ত রোগীদের অবস্থা অনুযায়ী শ্রেণীবিন্যাসের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘শনাক্তকরণের পর ধাপে ধাপে ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিভক্ত করা যায়—থ্যালাসেমিয়া মেজর, থ্যালাসেমিয়া মাইনর ও থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট। চিকিৎসকরা যতদূর সম্ভব সতর্কতা ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে চিকিৎসা দিলে রোগী ও তার পরিবার অনেকাংশে চিন্তামুক্ত ও আশ্বস্ত হবেন।’

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পরিবারে সহযোগিতা ও আশ্বাস দেয়া জরুরি। অনেকেই জানেন না, এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি এবং এর চিকিৎসা সম্পর্কেও তারা অবহিত নন। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিও স্বাস্থ্যকর জীবন অতিবাহিত করতে পারে।’

স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের এ অসামান্য মানবিক কাজের জন্য অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাই।’ এ সময় নিজের কন্যা জাইমা রহমানের রক্তদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আমি আজ বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই আমার কন্যা জাইমা রহমানকে, যিনি একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা। এ-যাবৎ তিনি সাতবার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সচেতনতা বৃদ্ধিই থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। মানুষ যেভাবে এ রোগীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা আশা জাগায়।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন।’ চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন ও জনগণের দায়িত্ব ‘ফিফটি-ফিফটি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।