বাংলাদেশ আর সস্তা শ্রমের দেশ থাকতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লূৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সস্তা শ্রমের দেশ থাকতে চায় না। একই সঙ্গে ব্যবসার জন্য কঠিন পরিবেশও চায় না। বিনিয়োগকারীদের আইনের মধ্যে থেকে সব নিয়ম সহজ করার চেষ্টা করছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাপান-বাংলাদেশ সহযোগিতা: বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব’ শিরোনামে এ সেমিনারের আয়োজন করে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।
সেমিনারে বিডা এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন বলেন, বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যত বাধা আছে আমরা পর্যায়ক্রমে তা নিরসন করব। অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি।
বিনিয়োগ সংক্রান্ত যেকোনো কাজে সরাসরি বিডাতে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো তৃতীয় পক্ষ নয়। বিদেশী বিনিয়োগের যেকোনো সংকট সমাধানে বিডা একমাত্র আস্থার জায়গা। জাপানের বিনিয়োগ আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো জোরদার করতে চাই।
জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খুবই কম। তাদের প্রতি জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বাংলাদেশ ২০২৬ এ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিদেশী বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এফডিআই আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের সময় খুবই কম। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক ইকো-সিস্টেম সহজীকরণে জাপান আগ্রহী।
জেট্রো বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউজি আনন্দ বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে একটি গবেষণা জরিপ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, আগামী ১-২ বছরের মধ্যে আসিয়ান অঞ্চলে জাপানের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ কোম্পানি তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা করছে। তাদের প্রায় ৬১ দশমিক ২ শতাংশের গন্তব্যই বাংলাদেশ। তবে এ দেশে ব্যবসার জন্য এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের ব্যবসা নিয়ে তাদের অসন্তোষ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইশিগুশি তমহিদে বলেন, বাড়তি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে ব্যবসা শিল্পের বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উন্নতির ওপর নজর দিতে হবে। বিশেষ করে ব্যবসার অনুমোদন, উৎপাদন এবং লজিস্টিক খাতের পুনর্নির্মাণে জোর দেয়া দরকার।
সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন এফআইসিসিআই সভাপতি জাভেদ আখতার, জেসিআইএডির প্রেসিডেন্ট আতসুশি হিরাকুরু প্রমুখ।










