কৃষ্ণ নন্দী। খুলনা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। বর্তমানে জামায়াতের ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা, নিজ আসনের ভোটারদের প্রতি প্রতিশ্রুতিসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শুভ্র শচীন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী আপনি। এ প্রসঙ্গে বলুন।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনে সব ধর্মের মানুষের ঐক্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। আমাকেও সব ধর্মের মানুষের ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

ভোটারদের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সময় একটু কম হয়ে গেছে। জনসংযোগের আর একটু সময় পেলে ভালো হতো। তার পরও মানুষ আমাকে ভোট দেবে। আমি সব শ্রেণীর ভোটারদেরই সাড়া পাচ্ছি। সবাই আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। মুসলিম ভাইরা তো সার্বক্ষণিক আমার সঙ্গে জনসংযোগে রয়েছে। তবে একটি দল প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু জামায়াত টাকা দিয়ে ভোট কেনে না। তাছাড়া হিন্দুদের বলা হয়, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে হিন্দুরা এ দেশে থাকতে পারবে না। কিন্তু আমি বলতে চাই, জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুরা এ দেশে সসম্মানে থাকবেন। এ বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছি।

নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে আপনার ভাবনা ও পরিকল্পনা কী?

বিগত দিনগুলোয় এ এলাকার তেমন কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে উপকূলীয় এ অনুন্নত জনপদের রাস্তাঘাট, টেকসই বেড়িবাঁধ, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করব। সুন্দরবনের বনজীবীদের জীবিকায়নে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে আমার। সর্বোপরি জলবায়ু সহনশীল জনপদ গড়ার প্রচেষ্টা থাকবে আমার। সৃষ্টিকর্তা আমাকে যথেষ্ট দিয়েছেন। এখন জনগণ সুযোগ দিলে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।

দাকোপ-বটিয়াঘাটা এলাকার স্থানীয়রা বলছেন, উপকূলীয় এ জনপদ জলবায়ু পরিবর্তনে আরো দুর্যোগপ্রবণ হয়ে উঠেছে। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, লবণাক্ততা এবং ভঙ্গুর বেড়িবাঁধের সমস্যায় এ এলাকা জর্জরিত। ভোটারদের দাবি, যারা দীর্ঘদিনের এ বঞ্চনা দূর করে টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন, তাদেরই তারা বেছে নেবেন। প্রার্থী কোন ধর্মের সেটা বড় কথা নয়। জামায়াতের অতীত ইতিহাস এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও শিক্ষার বিষয়টিও তারা বিবেচনায় নেবেন বলে আশা করি।

নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা বা প্রতিবন্ধকতা দেখতে পাচ্ছেন কি?

নির্বাচনী পরিবেশ ভালো আছে। তবে প্রথম দিকটায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

নির্বাচনী ব্যয় কীভাবে সংগ্রহ হচ্ছে?

হলফনামায় আমি ২০ লাখ টাকা খরচের কথা বলেছি। এ অর্থের কিছু আসছে দলীয় তহবিল থেকে। কিছু আমার নিজস্ব তহবিল থেকে, আর কিছু আসছে স্বজনদের কাছ থেকে।