কাওরান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘বাংলাদেশের জনগণ’ ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। রোববার (২৪ নভেম্বর) দিনভর অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে সন্ধ্যায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। তাদের ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের জিয়াফত, প্রথম গরু জবেহ’। এছাড়া আগ্রাসনবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্লাকার্ডসহ স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কার্যালয়ের সামনে তারা একটি গরু জবাই দেন। সেখানেই রান্নার আয়োজন করা হচ্ছে। এমন কর্মসূচি দেখতে কয়েকশ উচ্ছ্বসিত জনতা সেখানে ভিড় করেছে।

তেজগাঁও থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. রকিব বণিক বার্তাকে বলেন, দুপুরে কাওরান বাজারে পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। পরে তারা কালো রঙয়ের একটি গরু জবাই করে। সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা সেটি না করে উত্তেজনা তৈরি করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী এবং তেজগাঁও থানার সকল টিম সেখানে কাজ করছেন।

এদিকে, প্রথম আলোর একাধিক কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্য দিনের মতো এদিনও তারা অফিসে আসেন। এরপর হঠাৎ করে বিক্ষোভকারীরা উত্তেজনা তৈরি করেন। পরে অফিসের সকল গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তারা নিরাপদে অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। রাত নয়টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

এর আগে একই ব্যানারে গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিক্ষোভকারীরা। পরদিন শুক্রবার (২২ নভেম্বর) ডেইলি স্টারের পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করা হয়। পরে সেখান থেকে পত্রিকার দুটির কার্যালয়ের সামনে গরু জবাই করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

তাদের দাবি— ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পত্রিকা দুটি দেশে ভারতীয় আগ্রাসনে সহায়তা ও শাহবাগী বয়ান তৈরিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে বলে বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন। অংশগ্রহণকারীদের দাবি— ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জঙ্গি বানানোর কারিগর হিসেবে কাজ করছে।