কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে একটি গ্রুপকে প্রবেশ করতে না দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। 

আজ শনিবার বিকেলে রাজারহাট উপজেলা শহরের সোনালী ব্যাংক চত্বরে সম্মেলন বর্জনকারী গ্রুপটি অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের সাথে নেতা কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে নেতা কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাটি চার্জ সহ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

পুলিশ ও দুই গ্রুপের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সম্মেলনকে কেন্দ্রকরে বিবাদমান দুটি গ্রুপ প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করে। শনিবার সকালে রাজারহাট কারিগরি বাণিজ্যিক কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নূর মো. আক্তারুজ্জামানের গ্রুপ সম্মেলনের আয়োজন করে। 

সেখানে কুড়িগ্রাম আওয়ামী লীগের জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে রাজারহাট উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরাওয়ার্দী বাপ্পী ও উপজেলা সভাপতি চাষী আব্দুস ছালাম নেতা কর্মীদের নিয়ে সম্মেলনে অংশ নিতে গেলে সংঘর্ষের আশংকায় তাদের প্রবেশে বাঁধা দেয় পুলিশ। পরে চাষী আব্দুস ছালাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরাওয়ার্দি বাপ্পী গ্রুপের নেতা কর্মীরা উপজেলা শহরে সোনালী ব্যাংক চত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের আগে কারিগরি বাণিজ্যিক কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মো. শাহের আলীকে সভাপতি ও আবু নুর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে কমিটি গঠন করা হয়।

পরে বিকেলে উপজেলা শহরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পাল্টা সম্মেলনের ডাক দেয় ওই গ্রুপটি। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের পাল্টা কমিটি গঠন করতে গেলে সেখানে গিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠি চার্জ করে সম্মেলন পন্ড করে দেয় পুলিশ।