নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, এবারের নির্বাচন মূলত লাইনচ্যুত হয়ে পড়া নির্বাচনব্যবস্থাকে আবার লাইনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। ন্যূনতম মেরামত ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনকে সচল করাই বর্তমান কমিশনের লক্ষ্য।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর জোটের একটি প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ইলেকশন ও পার্টিসিপেটরি ডেভেলপমেন্টের সহযোগিতায় নাগরিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক সংসদ নির্বাচন শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এ জোটে ৮১টি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা যুক্ত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিগত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে অনেক পর্যবেক্ষণ সংস্থা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ৩০০টি সংস্থা আবেদন করলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে ৮১টিকে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে।
নতুন নিবন্ধিত সংস্থাগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের মতো পক্ষপাতমূলক ভূমিকা যেন আর না দেখা যায়। মৌলিক নির্বাচনী নীতির ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন কমিশনকে বিতর্কে ফেলতে পারে এবং এতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকেও হারাতে হতে পারে। তবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে কমিশনের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
নির্বাচনী সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনকে সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে এটিকে প্রথম বড় অর্জন হিসেবে ধরা যাবে। এরপর ধাপে ধাপে আরো উন্নতির পথে এগোতে হবে। পর্যবেক্ষকদের তিনি কমিশনের তৃতীয় চোখ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মানসম্মত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সব পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোটের সদস্য সচিব হারুন উর রশীদ। তিনি বলেন, কোনো দলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন দেয়া হবে না। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষকদের জন্য আচরণবিধি তৈরি করা হয়েছে। তাই এবার দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি তিন ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক আনাস্তাসিয়া এস উবাইয়া বলেন, কে জয়ী হলো তা নয়, বরং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভোটার ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়েছে কি না, সেটিই পর্যবেক্ষণের মূল বিষয়। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান দীপক এলমার বলেন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।










