জনগণ সংস্কার বোঝে না, সংসার বোঝে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যেভাবে পারেন, বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়ান। বাজার স্থিতিশীল করুন। সিন্ডিকেট দমন করুন। জনগণ সংস্কার বোঝে না, তারা দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল চায়, তারা পরিবার বোঝে, সংসার বোঝে। রমজান মাসে যেন কোনো জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে। প্রয়োজনে ভ্যাট, ট্যাক্স কমিয়ে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে হবে।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ফেনীর মিজান ময়দানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের বিচার ও দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রা পথে উত্তরণের লক্ষ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাসহ এমপি, মন্ত্রী সবাই গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগসহ তাদের সব অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা গণহত্যা চালিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে। এটি আজকে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি, এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তারা আগামীতে নির্বাচন করতে পারবে কিনা। শেখ হাসিনার বাবা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। আর শেখ হাসিনাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এখন প্রতিবেশী একটি দেশে বসে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। অথচ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস হাজার বছরের। আমরা সবাই মিলেমিশে এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একসঙ্গে বাস করি। আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস। তারা ৭৫-এ বাকশাল করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। হাসিনা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেননি, হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ধ্বংসের পেছনে শেখ হাসিনার দোসরদের হাত ছিল। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং বিচার করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদাসীন হলে হবে না, সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উপদেষ্টাদের যারা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিলেন তাদের বাদ দিতে হবে। ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় করে যারা পালিয়ে গেছে তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সংস্কারগুলো তার আগে করে নিতে হবে। সংস্কার সংস্কার বলে নির্বাচন বিলম্বিত করবেন না। বাংলাদেশে যারা আনুপাতিক ভোট চায়, বাংলাদেশ নিয়ে তাদের অনুপাত জ্ঞান নেই।
তিনি আরো বলেন, যারা আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় তাদের মতলব কী জানতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। সুতরাং সবার আগে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুন প্রমুখ।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আল্লাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার।










