আগামী মাসেই সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূরণ হবে। এ সময়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি কেমন?

শুরুতেই আমাদের মধ্যে একটি বিষয় প্রোথিত হয়েছিল যে ‘উই আর হিয়ার নট ফর ইনডেফিনিট পিরিয়ড অব টাইম’। আমাদের কাছে খুব অল্প সময় আছে এবং মানুষকে সেবা করার জন্য আমরা এখানে এসেছি। এ সময়টুকুতে আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিতে হবে। আপনারা জানেন যে আমার মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কাজের সঙ্গে একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম হলো ফ্যামিলি কার্ড। আগামী এক বছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে আমরা এ কার্ড প্রদান করব—সেভাবেই কাজ করছি। এর বাইরে সেফটিনেটের আওতাধীন উপকারভোগীর সংখ্যা হরাইজন্টালি এবং ভার্টিক্যালি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে টাকার পরিমাণ। অতীতে প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে দয়া-দাক্ষিণ্য করার মতো একটা বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা প্রতিবন্ধিত্বকে ব্যাধি কিংবা বোঝা হিসেবে ধরতে চাই না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবশ্যই আমরা দেশের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে আমরা কাজ করছি।

সাধারণত সরকার পরিবর্তন হলে আগের সরকারের সমস্ত কাজ ফেলে দিয়ে নতুন করে শুরু করা হয়। কিন্তু আমরা ফেলে দেয়ায় বিশ্বাসী নই। সেক্ষেত্রে যেসব প্রজেক্টকে আমাদের মনে হচ্ছে ফিজিবিলিটি আছে এবং দেশের উপকার হবে সেগুলোকে এক্সটেন করছি। চিন্তা করছি কোন কাজটা আমরা অল্প সময়ে বেশি করতে পারব।

সামগ্রিকভাবে, ১৮০ দিনের কাজের মূল্যায়ন জানতে চাইলে আমি বলব, ১৮০ দিনের টার্গেট নিয়ে আমাদের মন্ত্রণালয়ের কেউ ৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমাই কিনা সন্দেহ আছে। কারণ আমরা সবাইকে ব্যস্ত রেখেছি। ব্যস্ত আছি। খুব চ্যালেঞ্জিং একটা প্লাটফর্মে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। আপনারা জানেন অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা খুব ডিস্ট্রাক্টিভ সিচুয়েশনে আছি। মন্ত্রণালয়ের যে নেটওয়ার্ক সেখানেও যে সবাই খুব ভালো মানুষ বসে আছে সেটাও বলছি না। কারণ আমাদের সেই স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, যে স্ট্রাকচারের মানসিকতা ছিল যে ক্ষমতা আছে মানে আমরা সবকিছু করতে পারি। কিন্তু আমরা স্ট্রাকচারটাকে বোঝাতে চাই যে এটা ক্ষমতা না, দায়িত্ব। ওই ক্ষমতার জায়গা থেকে দায়িত্বের জায়গায় মানসিক ট্রান্সফরমেশনটা কিন্তু সময়সাপেক্ষ। এ বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা কাজ করছি। এতে একটু বেগও পেতে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের সিস্টেম চেঞ্জের কাজ চলছে, মানুষের ও সমাজের উন্নয়নের কাজ চলছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতীতের কাজগুলোর সঙ্গে এ সরকারের কাজের গুণগত পার্থক্য আছে কি? আপনারা নতুনভাবে কোন বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছেন?

নিশ্চয়ই আছে। আমরা আমাদের সোশ্যাল সেফটিনেটটাকে পরিবর্তন করব। আমরা বিগত সময়ে দেখেছি যে ভবঘুরে সেন্টারের নামে দালান করে ফেলে রাখা হয়েছে। লজিস্টিকস ও রিসোর্সের অপব্যয় হয়েছে। সুতরাং তুলনা করতে গেলে বলব, আমরা প্রতিটা জায়গাকে ধরে ধরে অপচয়গুলোকে বন্ধ করছি। যার যে কাজটা করার কথা তাকে সেই কাজটা করার জন্য বাধ্য করছি।

এমনও হয়েছে যে শুধু জনবল নিয়োগের জন্য প্রজেক্টটা নেয়া হয়েছে, কোনো কাজ করা হয়নি। আবার দেখা গেছে যে পাঁচ বছরের প্রজেক্ট পরের পাঁচ বছর ফেলে দেয়া হচ্ছে। সেই যে পাঁচ বছরের প্রজেক্টে কিছু স্কিল তো ডেভেলপ করেছে। তাদের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে রেখে আমরা স্কিলগুলোকে কিন্তু প্রিজার্ভ করার চেষ্টা করছি। কোনো ধরনের অপচয় এখানে হতে দিচ্ছি না।

আপনার মন্ত্রণালয়ের কাজের বড় জায়গা ফ্যামিলি কার্ড। এটি এখন কোন অবস্থায় আছে এবং সামনের দিনের পরিকল্পনা কী?

ফ্যামিলি কার্ডের তিনটা ফেজের পাইলটিং শেষ করে যে ত্রুটিগুলো পেয়েছি সেগুলোকে অ্যাড্রেস করেছি। এক বছরে আমরা ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর অংশ হিসেবে আমরা যে ত্রুটিগুলো পেয়েছি সেগুলো যাতে আর না হয় তেমন করে আমাদের সিস্টেমকে ডেভেলপ করেছি। সিস্টেম অনুযায়ী এরই মধ্যে আমাদের এনেমারেটর সিলেকশনের কাজ চলছে।

এনেমারেটর সিলেকশন হচ্ছে যারা সারা দেশ থেকে তথ্যটা সংগ্রহ করবেন যে কারা এ ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্য। আপনারা জানেন যে এটা আমরা একটা অটোমেটিভ সিস্টেমের মাধ্যমে করছি। যেটাকে আমরা প্রক্সিমিন টেস্ট বলি। এ প্রক্সিমিন টেস্টটা হচ্ছে যে আপনার ইকোনমিক স্ট্যাটাসের বাইরে গিয়ে স্ট্যাটাসটা আইডেন্টিফাই করা। একটি বাড়ির অবস্থা, পরিবারের ব্যবহার্য নানা ডিভাইস, জমির পরিমাণসহ বেশকিছু বিষয় দেখে আইডেন্টিফিকেশনটা হয়। এটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটা টেস্ট। এর মাধ্যমে কিন্তু আমরা উপকারভোগীদের বাছাই করছি। তবে কোনো সিস্টেমই শতভাগ নির্ভুল নয়। পরবর্তী সময়ে সিস্টেম থেকে যখন বলব একটি এলাকায় এ ৫০টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্য, তার পরই সেই এলাকায় হবে গণশুনানি। গণশুনানিতে বলা হবে যে এ ৫০টি পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, আপনারা দেখেন যে এখানে কোনো ভুল আছে কিনা। আমরা পাইলটিংয়ে দেখেছি যে দালান আছে কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে গেছে। কিন্তু যার বাড়ি ভাঙা সে পায়নি। গণশুনানি করার লক্ষ্যই হলো যাতে শতভাগ উপকারভোগীর কাছে পৌঁছতে পারি। এটি সম্পূর্ণ সর্বজনীন ও সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি প্রজেক্ট। সুতরাং সেভাবেই আমরা কাজগুলো করার চেষ্টা করছি। আমাদের এ ডেটা সংগ্রহ থেকে শুরু করে এ গণশুনানির কার্যক্রমটা আগামী সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবরের শুরুতে শেষ করে ফেলতে পারব বলে আশা করছি। এর পর পরই পুরো বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেয়া শুরু করতে পারব।

আর্থিকভাবে কিছু অঞ্চল তুলনামূলক বেশি পিছিয়ে আছে। ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে সব অঞ্চলের মধ্যে সমতা বিধানের কোনো পরিকল্পনা করছেন কি?

প্রাধান্যটা অঞ্চলভিত্তিক হচ্ছে না। প্রাধান্যটা হচ্ছে ওই যে আমি বললাম, প্রক্সিমিন টেস্টের যে প্রশ্নগুলো আছে সেগুলো এমনভাবে তৈরি করা যে ওই টেস্টই বলে দেবে যে কার প্রয়োজন। যেমন রংপুর একসময় মঙ্গাপ্রবণ এলাকা ছিল। ওখানে অনেক গরিব মানুষ এখনো আছে। স্বাভাবিকভাবে ওই অঞ্চলের মানুষ টেস্টে প্রশ্নগুলো পূরণ করলে দেখা যাবে যে ওখানে আমাদের উপকারভোগীর সংখ্যাটা বেশি আসবে। সুতরাং উত্তরাঞ্চলের মানুষ বেশি পাবে অথবা সিলেটের মানুষ বেশি পাবে না বিষয়টা কিন্তু সে রকম না। এটা নির্ভর করবে খানা বা হাউজহোল্ডের তথ্যের ওপর। সেজন্য সঠিক তথ্যটা সংগ্রহ করাতেই আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা ডাইনামিক ডেটা রেজিস্ট্রেশন করতে চাচ্ছি। একটা ডাইনামিক ডেটা সেন্টার করতে চাচ্ছি। যেটাকে আমরা বেজলাইন করছি ওয়ান কার্ড, ওয়ান সিটিজেন ভিত্তিতে। একটি বেজ তৈরি করার জন্য সারা দেশের ডেটা আমরা কালেক্ট করতে চাচ্ছি, যে ডেটা কিন্তু সর্বোপরি সবারই কাজে আসবে। বাংলাদেশের জন্য একটা অ্যাসেট হবে।

একজন বিধবা, যিনি বিধবা ভাতা পেয়ে আসছেন, যখন তিনি ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করছেন তখন কিন্তু তার ওই বিধবা ভাতাটা কাটঅফ হয়ে যাবে। আল্টিমেটলি দেখা যাবে যখন আমরা এ ফ্যামিলি কার্ড অথবা কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভাতা নিশ্চিত করে ফেলব তখন দেখবেন যে অন্যান্য ভাতা ডাবল ডেপিং পর্যায়ে গিয়ে বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে সেবাগ্রহীতা দুই কোটির অধিক। ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য সেবায় চার কোটি মানুষকে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। অধিদপ্তর বলছে, বর্তমান কাঠামের আলোকে ১২ হাজার জনবল দিয়ে তাদের সেবা দেয়া সম্ভব নয়। তবে কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করা হবে?

বাংলাদেশের সব জায়গায় এটি দেখা যাবে। আমি খুব অবাক হয়ে যেতাম যে বাংলাদেশে এত বেকার, তাহলে এত শূন্য পদ কেন। সুতরাং এ রিক্রুটমেন্ট সিস্টেমগুলোর ভেতরে অনেক ধরনের অনিয়ম রয়েছে। এগুলোকে আমাদের ঠিক করতে হবে। জনবল নিয়োগেও এটাকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে সরকারের বাজেটে বা রাজস্বে সব ধরনের জনবলকে নিয়ে আসাও কিন্তু সম্ভব না। এখানে দীর্ঘ সময় ধরে একটা প্র্যাকটিস প্রচলিত আছে যে প্রজেক্ট ওয়াইজ আউটসোর্সিংয়ের বেসিসে জনবল নিয়োগ করা হয়। প্রজেক্ট শেষ, তাদের কাজও শেষ। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এ সিস্টেমটা আসলে এ রকম করে থাকা উচিত নয়। কারণ আমি একটা প্রজেক্টে পাঁচ বছরে একটা স্কিল ডেভেলপ করলাম। আমার উচিত এ স্কিলটাকে পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা। আমি চাই যে পরবর্তী সময়ে যদি কোনো প্রজেক্ট আসে এ জনবলটাকে যেন আমরা নিয়োগ দিই নতুন জনবল নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে।

সুতরাং অবশ্যই এখানে আমাদের জনবলের বেশকিছু ঘাটতি আছে এবং আমার মন্ত্রণালয়সহ প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় আছে। কী করে ডিসিপ্লিন ওয়েতে আমরা জনবলের এ শূন্য জায়গাগুলোকে পূরণ করতে পারি সেটাও আমাদের দেখতে হবে। সেই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে যে আমরা কিন্তু মেরিটোক্রেসির দিকে বেশি ধাবিত হচ্ছি। আমরা চাই নিয়োগগেুলো মেধাভিত্তিক হোক।

শুরুতে আপনি মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন করছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকেও মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছিল। সে ব্যাপারে জানতে চাই।

আমাদের যখন অফিস দেয়া হয় তখন প্রধানমন্ত্রী দলের প্রধান হিসেবে যেমন নির্দেশনা দিয়েছেন, অভিভাবক হিসেবেও কিন্তু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তো প্রত্যেকটি নির্দেশনার জায়গায় একটি জিনিস খুব কমন ছিল যে ‘আপনারা যে জায়গাটিতে বসেছেন, যে চেয়ারটিতে বসেছেন এটা হচ্ছে আপনাদের দায়িত্ব। আপনারা মনে করবেন যে আপনার প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা মিনিট আপনাকে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে এবং যে প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে দিয়ে আপনি এখানে এসেছেন সেগুলো নিয়ে আবার জনগণের কাছে যেতে হবে। সুতরাং আপনি কোনো দিকে না তাকিয়ে কাজটি করে যান। আপনি যদি কাজ করে যান আপনার মূল্যায়ন আপনার মতো করে আসবে।’ সুতরাং আমরা সেই কাজটাই করছি। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন আমি ডানে-বামে, সামনে-পিছে না তাকিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সুতরাং মূল্যায়নের দিকে এখন তাকাইনি।

জুলাই মাস চলছে। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা আপনারা কতটুকু ধারণ করছেন?

জুলাইটা আমাদের। আমরা তো একাত্তর দেখিনি। তাই জুলাইটা ছিল আমাদের কাছে নতুন করে বাঁচার একটা স্পৃহা। যে অত্যাচার-অনাচার ১৭ বছর ধরে আমাদের ওপর, দেশের বিভিন্ন সেক্টরের মানুষের ওপর দিয়ে গেছে, এ স্পৃহা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই এবং আমরা সেটাই করছি। তবে আমার ব্যক্তিগত একটা দুঃখ আছে। সেটা হচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আমরা যে শক্তি একটা জেনারেশনের ভেতরে দেখেছি; অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া অথবা দেশকে ভালো দিকে নিয়ে যাওয়ার যে স্পৃহাটা দেখেছি ওই ফোর্সটাকে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আমি খুব ফিল করি যে ওই ফোর্সটা যারা একেবারে গুলির সামনে নিজেদের দাঁড় করিয়ে দিল, যে মা তার সন্তানদের এগিয়ে দিলেন গুলির সামনে। খুব টেকনিক্যালি, খুব পরিকল্পিতভাবেই এ ফোর্সটাকে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এদের ভাগ করে ফেলা হয়েছে। তো আমি আমার সেই সন্তানদের জন্য, সেই ভাইদের জন্য, সেই বোনদের জন্য বলতে চাই যে আমাদের এখনো সময় আছে। নিজেকে তৈরি করো, সামনে বাংলাদেশ তোমাদের হাতে থাকবে।

জুলাইয়ে সামনের সারিতে থাকা অনেক নারী রাজনীতি থেকে নাই হয়ে গেলেন। আপনি একজন নারী রাজনীতিবিদ এবং প্রতিমন্ত্রীও। জুলাইয়ের নারীরা কেন পিছিয়ে গেলেন বলে আপনি মনে করেন?

প্রথম কথা হচ্ছে, এ পিছিয়ে পড়াটা শুধু কিন্তু মেয়েরাই যে পিছিয়ে পড়েছে তা নয়। আমি বলব যে ৯৮ শতাংশ ফোর্স যেটা ছিল ইযাং জেনারেশন পুরোটাই পিছিয়ে গেছে। নারীরা তো এমনিতে অনেক সময় ব্যাকডেটেড থাকেন। নারীদের পিছিয়ে রাখার জন্য অনেক ধরনের ক্রাইটেরিয়া কাজ করে আমাদের সোসাইটিতে। আমি বলি যে শুধু নারীরা পিছিয়ে যাননি। পুরা জুলাই ফোর্সটাকে যেটাকে প্রিজার্ভ করা উচিত ছিল, সেটাকে খুব পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে, যেন আর এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে না পারে বাংলাদেশে।

দ্বিতীয়ত, আমার পথটাও খুব কঠিন ছিল। আমাদেরও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা পার হয়ে আজকে এখানে আসতে হয়েছে। সুতরাং আমি একটা কথা বলতে চাই যে প্রতিবন্ধকতা ছেলে-মেয়ে সবার জন্যই থাকবে। আমি মনে করি যে আমি পারব মনে করলে আমি পারব। প্রতিটা মানুষ ইউনিক। প্রতিটা মেয়ে ও ছেলে ইউনিক। শুধু নিজেকে একটু জানতে হবে। যে সামাজিক কাঠামো বিগত সময়গুলোয় আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, যেটা আমাদের ইয়াং জেনারেশনের মাথায় আছে যে চেয়ার মানে ক্ষমতা এবং ক্ষমতার আশপাশে থাকলে অনেক কিছু পাওয়া যায় অনেক কিছু লাভ করা যায়, ওই মোহ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই জায়গাটাতে বিশ্বাস করি।

পাঁচ বছর পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

এই ১৮০ দিনের আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে কেউ চিনত বলে আমার মনে হয় না। মনে করত এটি এমন একটি মন্ত্রণালয় তাদের কাজ হচ্ছে খালি ভাতা প্রদান করা। কিন্তু আমার মনে হয় যে এখন বাংলাদেশে যতগুলো মন্ত্রণালয়ের নাম প্রতিদিন উচ্চারিত হয়, তার মধ্যে টপমোস্ট মিনিস্ট্রি হচ্ছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামগুলোর একটি এখন এ মন্ত্রণালয়ের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যদি আমরা সত্যিকার অর্থে দেশের ও সমাজের কল্যাণ করতে চাই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যে নেটওয়ার্কিংটা আছে এটার বাইরে গিয়ে কোনোভাবে করা সম্ভব না। সুতরাং যে গতিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি আগামী পাঁচ বছর যদি এটা করতে পারি তাহলে এ মন্ত্রণালয়টা বাংলাদেশের পুরো চেহারা পাল্টে দেয়ার মতো কাজ করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।