জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তর করা নিয়ে সভার আহ্বান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে চিঠি দিয়েছে, সেটি বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সংশোধন না হওয়ায় সচিবালয়ে অবস্থান নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনশনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি চিঠি পাঠিয়েছে; তাতে বলা হয়েছে সেনাবাহিনীকে কাজ বুঝিয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি সভা ডাকা হয়েছে বুধবার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিকে 'অসম্পূর্ণ' বলে তা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা; তারা বলেছিলেন বিকাল ৪টার মধ্যে চিঠি সংশোধন না করলে তারা সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার করবেন। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় সচিবালয়ের উদ্দেশে শিক্ষার্থীরা রওনা হন বিকাল ৪টার পরপর।

দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন মন্ত্রণালয়ের সভার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আন্তরিক, সহমর্মিতা প্রকাশ করেছি। বাংলাদেশের যে কোনো প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা থাকে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আজকে উপাচার্য সকাল থেকেই মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। আগামী বুধবার সাড়ে ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে সেনাবাহিনীকে কাজ দেয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে সাবিনা শারমিন বলেন, এ পর্যন্ত একটু সময় দাও। ইনশাআল্লাহ তোমাদের সঙ্গে মিলে তোমরা যেভাবে চাও সেভাবে বাস্তবায়ন করব। আমরা সেনাবাহিনীকে দিয়ে কাজটা করিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।

এরপর অনশনরত শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে বিকাল ৩টার দিকে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন যে তারা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠির নবায়ন চান।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ও জাস্টিস ফর জুলাইয়ের আহ্বায়ক সজিবুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদেরকে সভার একটি চিঠি পাঠিয়েছে সেটা অস্পষ্ট, আমরা সুস্পষ্ট রূপরেখার মাধ্যমে কীভাবে চিঠি করতে হবে সেটার ড্রাফট আমরা রেডি করেছি। আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই। আগামী বুধবারের বৈঠকে সেনাবাহিনীর প্রকৌশলী ইউনিট, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বসার জন্য যে তারিখ নির্ধারণ করেছে ৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের শর্তে বৈঠকে বসবে। এই বলে অঙ্গীকার প্রদান করে লিখিত দিতে হবে।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, সেনা কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাদের সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা। ওই বৈঠকের জন্য তারা সব পক্ষকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। ওই সময়ের মধ্যে কারো দিক থেকে কোনো সাড়া মেলেনি, বরং অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার ঘোষণা দিলে, পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অনশনরতরা সেই চিঠি সংশোধনে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়কে সময় দেন।