অননুমোদিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসা ইস্ট এশিয়ান ইউনিভার্সিটির নামে প্রতারণার বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একটি ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে (https://eaub.info/) এই ইউনিভার্সিটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি।

ইউজিসির পরিচালক ড. শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইস্ট এশিয়ান ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে একটি প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ শাখা থেকে ইস্যুকৃত সনদের সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইউজিসি তদন্ত শুরু করে। সরকারি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এর নাম না পেয়ে, ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান রাজধানীর পূর্ব মেরুল বাড্ডায় বলে উল্লেখ থাকায়, সরজমিনে পরিদর্শনের জন্য ইউজিসি দুই সদস্যের একটি দল গঠন করে। গত ২০ জানুয়ারি পরিদর্শন শেষে টিম জানায়, বাড্ডায় এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নেই।

ইস্ট এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ওয়েবসাইটে দাবি করেছে, এটি বাংলাদেশ সরকার, ইউজিসি, ফার্মেসি কাউন্সিল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অনুমোদিত। তবে ইউজিসি বলছে, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অবৈধ। কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গুগল সার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম টাইপ করলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের লোগো দেখায়। কিন্তু ক্লিক করলে ইস্ট এশিয়ান ইউনিভার্সিটির পেইজ ওপেন হয়। আশ্চর্যের বিষয়, সেখান থেকে আবার ইবাইস ইউনিভার্সিটির (https://ibais.ac/) পেইজে চলে যায়।

ইউজিসি তাদের প্রতিবেদনে প্রতারণা বন্ধে ওয়েবসাইটটি (https://eaub.info/) ডোমেইন দ্রুত বন্ধের জন্য বিটিসিএলকে নোটিস দেয়ার সুপারিশ করেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।