আগামী ১৫ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ইয়ার্ন, ফেব্রিক ও ডেনিমের চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ২৩তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো এর শীতকালীন সংস্করণ শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে ৭ম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ডেনিম শো-২০২৫।

প্রদর্শনীগুলো যৌথভাবে আয়োজন করছে কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ) এবং দ্য সাব-কাউন্সিল অব টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি, চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি টেক্স চায়না)।

আজ সোমবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানান সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিকের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন ইসলাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুরো অর্থনীতি বস্ত্রশিল্প কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। আয়োজক হিসেবে আমরা চেষ্টা করছি এ খাতে আমাদের সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার। বর্তমানে বস্ত্রশিল্প রফতানিতে আমরা দ্বিতীয়। এ অবস্থান থেকে আমরা আরো উন্নতি করার চেষ্টা করছি। সে লক্ষ্যেই আমাদের এ প্রদর্শনী। যেখানে দেশী-বিদেশী ক্রেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

সেমস-গ্লোবালের সিইও এস এস সারওয়ার বলেন, আমাদের প্রদর্শনীটি এশিয়ার বাজারে ইয়ার্ন, ফেব্রিক, ডেনিম ও পোশাকশিল্পের যন্ত্রপাতির অন্যতম উৎস হবে। বর্তমানে চায়নাতে শ্রমবাজারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সমূহ সম্ভাবনা আছে। চীন আমাদেরকে যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে নিচ্ছে বলেই এ প্রদর্শনীতে তারা অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে অনেক বেশি বিনিয়োগও আসবে।

তিনি আরো বলেন, আগামী বছরগুলোতে এ শিল্পের জন্য শুল্কারোপসহ কিছু চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের কারণে বাংলাদেশকে কিছু সুবিধা হারাতে হবে। আমাদের সবাইকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত হতে হবে। রফতানির জন্য আমাদের নতুন বাজার খুঁজতে হবে। এক্ষেত্রে ল্যাটিন আমেরিকা গুরুত্বপূর্ণ বাজার হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে চীনের বেইজিং থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন সিসিপিআইটি টেক্সের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ও ডিরেক্টর চেন বো। তিনি বলেন, প্রদর্শনীটি বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সহযোগিতা করবে। শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনীই নয়, এটি একটি প্লাটফর্ম। যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎপাদকদের মিথস্ক্রিয়া ঘটবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। আমরা প্রদর্শনীটি নিয়ে আশাবাদী।

আয়োজকরা জানান, সেমস-গ্লোবাল ইউএসএ আয়োজিত প্রদর্শনীগুলো বিশ্বের তিনটি মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশনের একটি অংশ, যা প্রতি বছর বাংলাদেশ, ব্রাজিল, মরক্কো, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রদর্শনীগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রদর্শনীতে ৬৫০টির বেশি বুথ নিয়ে ১৫টিরও বেশি দেশের প্রায় ৩২৫টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশের বাইরে দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন টেক্সটাইল এবং পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্টরাও সেখানে যোগ দেবেন। প্রদর্শনী চলাকালে একইসঙ্গে তিনটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সেমস-গ্লোবালের নির্বাহী পরিচালক তানভীর কামরুল ইসলাম।