স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে যশোর। এ জেলা থেকে প্রতিনিয়িত পাচার হচ্ছে স্বর্ণ। চোরাচালান ঠেকাতে প্রশাসনের তেমন কার্যকর তত্পরতা দেখা যায় না। যেটুকু উদ্ধার হয় তা বিজিবি সদস্যরা করে থাকেন। বৈধ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিজিবি বা কাস্টমসের হাতে যে স্বর্ণ উদ্ধার হয় তার ২০ গুণ সোনা পাচার হয়ে থাকে।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি যশোরের শার্শা উপজেলা শ্যামলাগাজী এলাকা থেকে এক কেজি ১৬৫ গ্রাম ওজনের ১০টি স্বর্ণের বারসহ ইসমাইল হোসেন (৩৮) নামে একজনকে আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। তিনি শার্শার নামাজগ্রামের বাসিন্দা। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ৮ কোটি টাকা মূল্যের ১০৪টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ২০ ডিসেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার উত্তর কাগজপুকুর গ্রামের ইমাদুল হোসেনকে ২০টি স্বর্ণের বারসহ আটক করে বিজিবি। গত তিন বছরে যশোর বিজিবি ও বেনাপোল কাস্টমস সদস্যরা প্রায় ১০০ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে বিজিবির হাতে আটক হয়েছে ৭৭ কেজি স্বর্ণ।

সোনা চোরাচালানের মূল হোতারা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা টাকার বিনিময়ে লোক দিয়ে পাচার করেন। শার্শার শিকারপুর, ভবেরবেড়, দৌলতপুরে অনেকেই স্বর্ণ চোরাচালানে সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া মনোহরপুর, ছুটিপুর, কাশিপুর, শালকোনা, পাকশিয়া এলাকা দিয়েও পাচার হচ্ছে স্বর্ণ।

বাংলাদেশ জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতি যশোরের সভাপতি রকিবুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্জয় বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত মূল হোতারা আটক হন না। তারা টাকার বিনিময়ে লোক দিয়ে এ কাজ করান। বিজিবির কাছে যে পরিমাণ স্বর্ণ আটক হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি স্বর্ণ পাচার হচ্ছে। এদের কারণে আমাদের সমিতির সদস্যদের বদনাম হয়। ব্যবসায়িকভাবেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তিনি বলেন, শিগগিরই বাংলাদেশে স্বর্ণের বার উৎপাদন হবে। তখন মেড ইন বাংলাদেশ লেখা থাকবে বারের গায়ে।

যশোর বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে তারা ৭৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। যার মূল্য প্রায় ৪৮ কোটি টাকা। গেল ২০২১ সালে উদ্ধার হয়েছে ১২ কেজির বেশি স্বর্ণ।

যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক শাহেদ মিনহাজ ছিদ্দিকী বলেন, স্বর্ণসহ বিভিন্ন চোরাচালান রোধে আমাদের বিজিবি সদস্য কাজ করছেন। বিশেষ করে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে আমাদের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। স্বর্ণ চোরাচালানে যারাই জড়িত, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার আবদুর রশিদ মিয়া বলেন, চেকপোস্ট দিয়ে তেমন স্বর্ণ চোরাচালান হয় না। কিছু স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। আমাদের সদস্যরা চোরাচালান রোধে সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বর্ণ মূলত সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে থাকে। যে কারণে বিজিবির কাছে বেশি ধরা পড়ে।