আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিল ও শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আইন-শৃঙ্খলা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

আজ মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, এবার আশুরা উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর বিভাগের আওতায় মোট ২৮টি ইমামবাড়া থেকে ১ থেকে ১০ মহররম পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১–৭ মহররমে ১০টি, ৮ মহররমে ১০টি, ৯ মহররমে ১৯টি এবং ১০ মহররমে ২৪টি মিছিল রয়েছে। প্রতিটি মিছিলের রুট নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিটি মিছিল ও প্রধান সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে ব্যারিকেড, পিকেট, লাইনিং ও ছাদভিত্তিক নজরদারি থাকবে। হোসেনী দালানসহ গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইমামবাড়াগুলোয় ড্রোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র‍্যাব ও সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড এবং বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে তল্লাশি পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ইমামবাড়া ও সমাবেশস্থলে আর্চওয়ে গেট ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল তল্লাশি চালানো হবে। হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলো বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন টিম ও ডিবিসহ বিভিন্ন ইউনিট স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে।

তাজিয়া মিছিলের রুট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগামী ২৬ জুন সকাল ১০টায় হোসেনী দালান ইমামবাড়া থেকে মিছিল শুরু হয়ে বকশীবাজার, আজিমপুর, নীলক্ষেত, মিরপুর রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি হয়ে ধানমন্ডি লেক (কারবালা) এলাকায় গিয়ে শেষ হবে। এ সময় নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ রুট ও বড় জমায়েত বিবেচনায় জরুরি পরিস্থিতির জন্য ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও ধানমন্ডি লেক এলাকায় ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিটি কমিটিকে পরিচয়পত্র বা নির্দিষ্ট পোশাকধারী পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে। পাইক মিছিলসংক্রান্ত বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে। মিছিলে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার নিশান, ধারালো ধাতব বস্তু, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, পোটলা বা সুটকেস বহন নিষিদ্ধ থাকবে।

এ ছাড়া উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র, পিএ সিস্টেম, ঢাক-ঢোল, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

অনলাইন গুজব প্রতিরোধে বিশেষ বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা সাইবার পেট্রোলিং এবং সোস্যাল মিডিয়া মনিটরিংকার্যক্রম চলমান থাকবে। কোনো ইমামবাড়া বা মিছিলের রুটে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে, তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত পুলিশ কিংবা ডিএমপির ট্রাফিক কন্ট্রোলরুম- ০১৭১১০০০৯৯০, ০১৭১১০০০৯৯১, পুলিশ কন্ট্রোলরুম-০১৩২০০৩৭৮৪৫, ০১৩২০০৩৭৮৪৬ ও জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনাররা ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ছিলেন।