বিদেশে কর্মরত নারী কর্মীদের সুরক্ষায় সৌদি আরবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দুটি ‘সেফ হোম’ পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ১৩ দেশের ২২টি ল ফার্মের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। পর্যায়ক্রমে আরো দেশে এ ধরনের আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

গতকাল সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩১-এর সদস্য মোছা. সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘‌বাংলাদেশী নারী কর্মীরা প্রধানত সৌদি আরব, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। এছাড়া হংকংসহ আরো কয়েকটি দেশে হাউজকিপিং ও কেয়ারগিভিং খাতে বাংলাদেশী নারীরা কর্মরত রয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘‌মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অতীতে বাংলাদেশী নারী কর্মীদের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে।’

কোনো বাংলাদেশী নারী বা পুরুষ কর্মী বিদেশে নিয়োগকর্তার নিগৃহের শিকার হলে চুক্তিবদ্ধ ল ফার্মগুলোর মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ওমানেও একটি ‘সেফ হোম’ রয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের দুটি কল সেন্টারের মাধ্যমে কর্মীরা অভিযোগ জানাতে পারেন।

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদের, বিশেষ করে নারী কর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের জন্য খসড়া পাঠানো হয়েছে। এমওইউটি স্বাক্ষর হলে ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’

তিনি বলেন, ‘‌সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে কর্মীর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন দেশে কী ধরনের দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন, সেই চাহিদা অনুযায়ী দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

নুরুল হক জানান, গত ১৭-১৮ মে কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় কাতারের চাহিদা অনুযায়ী পাঁচটি ট্রেডে পাঁচটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে সেখান থেকে কর্মী নেয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

নীলফামারী-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, ‘‌সৌদি আরবে বাংলাদেশী কর্মীদের প্রতারণা বা জিম্মি করার সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৫-এর সদস্য মোছা. সুরাইয়া জেরিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে কর্মী পাঠানোর অভিবাসন ব্যয় কমানো সরকারের অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে ২০১৩ সালে একটি খসড়া ব্যয় কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, বিশেষ করে ডলারের মূল্যের পরিবর্তন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটি হালনাগাদ করা হচ্ছে। হালনাগাদ ব্যয় কাঠামো বাস্তবায়নে জোর দেয়া হবে।’

বিদেশে কর্মীদের কাজ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‌কোনো বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার জন্য চাহিদাপত্র দিলে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং তা যাচাই করে। কর্মীদের দায়িত্ব, বেতন, থাকার পরিবেশ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যাচাইয়ের পর বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘‌বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে কাজ-সংক্রান্ত সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়। তবে বিশেষ বিবেচনায় এক থেকে পাঁচজন কর্মীর ভিসা বা ডিমান্ড লেটার দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাটেস্টেশন ছাড়াই অনুমোদনের যে সুযোগ রয়েছে, তার কিছু অপব্যবহার হচ্ছে। এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।’