দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লেক পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের আওতায় আনা গেলে তা মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, অব্যবহৃত জলাশয় কাজে লাগাতে পারলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বাড়বে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। মৎস্য অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করা গেলে তা দেশের মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৮০ একর জলাশয় রয়েছে। সেখানে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদন করা হলে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বছরে কয়েক কোটি টাকা আয়ও সম্ভব। এত বড় জলাশয় থাকার পরও অতীতে এ সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এদিন প্রায় ৩৯৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন মাছ চাষ না হওয়া এবং বাইরের পানির সঙ্গে সংযোগ থাকায় লেকে বড় আকারের শিকারি মাছ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ছোট পোনার পরিবর্তে তুলনামূলক বড় পোনা ছাড়া হয়েছে, যাতে সহজে নষ্ট না হয় এবং টিকে থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষি ও মৎস্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ধান, পাট কিংবা মাছের ক্ষেত্রে কোনো জমি বা জলাশয় অনাবাদি রাখা যাবে না। পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, দেশের ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়লে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এ জন্য সরকার কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, স্বল্পসুদে কৃষিঋণসহ বিভিন্ন কৃষিবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গবাদিপশুর কোনো সংকট নেই বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে সরকার, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেকে মোট ৩৯৫ কেজি মাছের পোনা ছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে রুই ১৫৮ কেজি, কাতলা ১১৮ দশমিক ৫ কেজি, মৃগেল ৭৯ কেজি এবং কালিবাউস ৩৯ দশমিক ৫ কেজি।