রাজশাহীতে ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন এক যুবক। আজ সোমবার বেলা পৌনে ২টার দিকে নগরীর কোর্ট হড়গ্রাম বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ওই যুবকের নাম আশিক আলী। তিনি নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার কাঁঠালবাড়িয়া হাটুভাঙ্গার মোড় এলাকার আসাদ আলীর ছেলে।
ওই ঘটনার পর আশিক আলীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। মুচলেকা নিয়ে সন্ধ্যায় নগরীর রাজপাড়া থানা থেকে ছাড়া পান ওই যুবক।
জানা গিয়েছে, কোর্ট হড়গ্রাম বাজারে রুটিন দায়িত্বে ছিলেন রাজশাহী নগর পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট আব্দুল কাইয়ুম। বেলা পৌনে ২টার দিকে দুই আরোহীসহ আশিক আলী ওই এলাকা অতিক্রম করছিলেন। চেকপোস্ট তাদের আটকান সার্জেন্ট কাইয়ুম। এরপর সার্জেন্ট কাইয়ুম কাগজপত্র দেখতে চাইলে আপত্তি জানান বাইক চালক আশিক আলী। চাবি নিতে চাইলে তাতেও বাধা দেন তিনি। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দেন আশিক।
আগুনে পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় রাজপাড়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের মালিক আশিক আলীকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। নগর পুলিশের ট্রাফিক দপ্তরে নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় আশিক আলীর বাবা আসাদ আলী উপস্থিত ছিলেন। পরে আশিক আলী জানান, একজন তার ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে দুপুরের দিকে তিনি কোর্টে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেল নিয়ে তারা দুজন বেরিয়েছিলেন। পথে আরেক জনের সঙ্গে দেখা হয়। তাকেও সঙ্গে নেন। তিনজন মোটরসাইকেল নিয়ে আসার পথে সার্জেন্ট তাদের আটকে দেন।
ওই যুবকের ভাষ্য, তিনি সার্জেন্টকে অনেক অনুরোধ করেছেন। জানিয়েছিলেন-পাশেই তার বাড়ি। কাগজপত্র এনে দেখাতে ৫ মিনিট সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু সময় না দিয়ে সার্জেন্ট তার নিজের নাম, বাবা ও মায়ের নাম এবং মোবাইল নম্বর চান। নাম-পরিচয় না বলায় কিভাবে মোটরসাইকেল বের করি তা দেখতে চান সার্জেন্ট। আশিক আরো জানান, এর আগে ট্রাফিক বিভাগ তাকে তিনবার মামলা দিয়েছে। ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বাইক ছাড়িয়েছেন। গাড়ি ধরলে ছাড়ানোর মত পরিস্থিতি তার নেই। গাড়ি রাখার চেয়ে না রাখা ভালো মনে করে আগুন ধরিয়ে দেন।
নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউল আল কোরাইসী বলেন, মোটরসাইকেলটি আটকানোর পর আশিক আলীর সঙ্গে থাকা অন্য দুই আরোহীর সঙ্গে পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীক ও পারিবারিক কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ঘটনার সময় তার মাথা ঠিক ছিলোনা। নিজের ভুল স্বীকার করেছেন তিনি। এ নিয়ে তার এবং তার পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।
ওসি বলেন, এই ঘটনায় নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আগামীতে ওই যুবক যেনো এই ধরণের ঘটনা না ঘটান সে জন্য মুচলেকা নিয়ে তাকে থানায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তিনি অন্যের কাছে যে টাকা পাবেন সেটি তুলে দেয়ার চেষ্টা করবে পুলিশ।
নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) অনির্বাণ চাকমা জানান, এটা নিছক পাগলামী। মোটরসাইকেলটি তার নিজের সম্পদ হলেও তিনি পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আগুন দিতে পারেন না। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। সম্প্রতি একটি ব্যবসায় মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির শিকার হন আশিক আলী। এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।










