রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের লংতিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ভোররাতে স্বামী-স্ত্রী দুজন মারা যান। মৃতরা হলেন সাজেক ইউনিয়নের নতুন বেটলিং পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাহন ত্রিপুরা (৫৫) ও তার স্ত্রী মেলাতি ত্রিপুরা (৫০)।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, মেলাতি ও তার স্বামী বাহন ত্রিপুরা লংতিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়া আক্রান্ত মেয়ের জামাইকে দেখতে এসেছিলেন। একপর্যায়ে এ দম্পতিও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাত ৩টার দিকে মারা যায়। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বনবিহারী চাকমা বণিক বার্তাকে সেলফোনে জানান, ‘গতকাল ভোররাতে লংতিয়ান পাড়ায় এক স্বামী-স্ত্রী দম্পতি ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পাড়াবাসীদের কাছ থেকে জেনেছি, তারা ডায়রিয়া আক্রান্ত অসুস্থ মেয়ের জামাইকে দেখতে এসে নিজেরাও আক্রান্ত হন। ওই পাড়ায় আরো দুজন ডায়রিয়া আক্রান্ত অসুস্থ আছে বলে কার্বারির (গ্রামপ্রধান) মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওষুধ পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা জানান, ‘সাজেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ধারণা করছি, খাবারের সমস্যা থেকে তাদের ডায়রিয়া হয়েছে। আমাদের জানা মতে, সেখানে আর কোনো রোগী না থাকায় কোনো মেডিকেল টিম পাঠাচ্ছি না।’
সম্প্রতি সাজেকের লংতিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর জরুরি মেডিকেল টিম পাঠিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। দুটি মেডিকেল টিম সাজেকে ৩৯ জন ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছিল। মেডিকেল টিমে কর্মরত এক স্বাস্থ্য সহকারী বণিক বার্তাকে জানান, ‘৭ জুন সাজেকের লংতিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়ায় মৃত্যুর ঘটনার পর আমরা সেখানে গিয়েছি।দুটি মেডিকেল টিমে আমরা ৩৯ জন ডায়রিয়া রোগী ও বেশ কয়েকজন অন্যান্য রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করি।’
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মাসের ৭ জুন সাজেক ইউনিয়নের লংতিয়ান পাড়ায় ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গবতি বলা ত্রিপুরা নামে এক নারী ও দরুং ত্রিপুরা নামে এক পুরুষ ডায়রিয়াসদৃশ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। একই দিনে একই পাড়ায় দুজনের মৃত্যু হলেও জেলা সিভিল সার্জন অফিস ডায়রিয়ায় একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।সে হিসেবে শনিবার এক দম্পতিসহ সাজেকে এ পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে।
প্রসঙ্গত, রাঙ্গামাটির দুর্গম উপজেলাগুলোয় প্রতি বছরই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের খবর পাওয়া যায়। বিশেষত আয়তনে জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়ন, জুরাছড়ির দুমদুম্যা ও মৈদং ইউনিয়ন এবং বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি ইউনিয়নের বাসিন্দারা ডায়রিয়াসহ অন্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হন। ওইসব এলাকায় সুপেয় পানি সংকট বছরজুড়েই থাকে। ওইসব এলাকার মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলেও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা উপজেলা সদরে এসে চিকিৎসা নিতে না পারায় অসুস্থ হয়ে মারা যান।










