বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু করেছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও নভো নরডিস্ক বাংলাদেশ। ডেনমার্কের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ উৎপাদন শুরু হওয়ায় দেশে ইনসুলিনের সরবরাহ বাড়বে ও ডায়াবেটিস রোগীরা তুলনামূলক কম দামে ইনসুলিন পাবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নভো নরডিস্ক এতদিন নোভোমিক্স ও নোভোর্যাপিডসহ আধুনিক ইনসুলিন ডেনমার্ক থেকে আমদানি করে আসছিল। এখন একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ইনসুলিন কার্ট্রিজ বাংলাদেশেই উৎপাদন করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, এই প্রথম দেশে প্রিমিক্স ও দ্রুত কার্যকর আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন করা হবে। উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচের মান ডেনমার্কে যাচাই করা হবে, যাতে নভো নরডিস্কের বৈশ্বিক মান বজায় থাকে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, এ উদ্যোগ দেশের উন্নত জৈব ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে জীবনরক্ষাকারী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হবে ও স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরো সহজ হবে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দার বলেন, এ অংশীদারত্ব জীবনরক্ষাকারী ওষুধের গুণমান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারকে আরো শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে ইনসুলিনের মতো জটিল জৈব ওষুধের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। এসকেএফ ও নভো নরডিস্কের এ প্রযুক্তি হস্তান্তর উদ্যোগ দেখায়, কীভাবে আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন দেশের চিকিৎসাসেবাকে আরো সহজলভ্য করতে পারে।
নভো নরডিস্ক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রিয়াদ মামুন প্রধানি বলেন, এই স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিনের প্রাপ্যতা বাড়বে। একই সঙ্গে নোভোমিক্স ও নোভোর্যাপিড ইনসুলিনের দাম ১৮ শতাংশ কমানো হচ্ছে। তবে গুণগত মানে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান বলেন, বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু হওয়া দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক মানের জৈব ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ২০৪৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। ফলে মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য ইনসুলিনের চাহিদা আরো বাড়বে।
প্রসঙ্গত, নভো নরডিস্ক ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইনসুলিন সরবরাহ করছে। ২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি দেশে হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল উৎপাদন করছে, যা বিদেশেও রফতানি করা হয়। অন্যদিকে, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস ১৯৯০ সাল থেকে দেশে উচ্চমানের ওষুধ উৎপাদন করে আসছে।










