শ্রীলংকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারের মুখোমুখি বাংলাদেশ। ক্যান্ডিতে গতকাল দ্বিতীয় টেস্টে ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশ ওয়ানডে মেজাজে খেলে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে লংকানদের কাজটি সহজ করে দিয়েছে। পাল্লেকেলে ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ৫ উইকেটে ১৭৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করে বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতায় অনেকটা আগেভাগেই দিনের খেলা শেষ না হলে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডের চিত্রটা আরো করুণ হতে পারত। ‘অসম্ভবকে সম্ভব করে’ জিততে হলে আজ ৫ উইকেট হাতে নিয়ে আরো ২৬০ রান করতে হবে বাংলাদেশকে, আর শ্রীলংকার চাই ৫ উইকেট।

তামিম ইকবাল, সাইফ হাসানরা আত্মাহুতি দিয়েছেন, নাকি চতুর্থ দিনের ভাঙা উইকেটে তাদের দাঁড়াতেই দেননি দুই স্পিনার রমেশ মেন্ডিস ও জীবন জয়াবিক্রমা, সেটা নিয়ে তর্ক হতেই পারে। তবে ডানহাতি ও বাঁহাতি এ দুই স্পিনারের ঘূর্ণি বলে ভর করেই শ্রীলংকা জয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছে।

টেস্ট ইতিহাসেই কোনো দল ৪১৮ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। সংগত কারণেই ৪৩৭ রান তাড়া করে জয়ের আশা হয়তো মুমিনুল হকের দলও করেনি। হয়তো সে কারণেই দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফেরার তাড়া ছিল তাদের! তামিম ২৬ বলে ২৪, সাইফ ৪৬ বলে ৩৪, নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৪ বলে ২৬, মুমিনুল ৪৮ বলে ৩২ ও মুশফিকের ৬৩ বলে ৪০ রানের ইনিংসগুলোই সে কথা বলছে। ফল যা হওয়ার তাই, ১৭১ রানের মধ্যেই নেই ৫ উইকেট।

টপ অর্ডারের পাঁচজন বিদায় নেয়ার পর লিটন দাসের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটন ১৪ ও মিরাজ ৪ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। মেন্ডিস ৮৬ রানে তিনটি ও জয়াবিক্রমা ৫৮ রানে দুটি উইকেট নেন। ম্যাচে জয়াবিক্রমার উইকেট সংখ্যা এখন ৮। শ্রীলংকার হয়ে অভিষেকে তার সমান কিংবা বেশি উইকেট আছে আর দুজনের—অজন্তা মেন্ডিস ও আকিলা ধনাঞ্জয়া।

এর আগে সকালে ৯ উইকেটে ১৯৪ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলংকা। ৩৫.২ ওভারে ১৭৭ রান তুলে নিলে লিড ৪০০ ছাড়িয়ে যায় স্বাগতিকদের। দিমুথ করুণারত্নে ৬৬, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ৪১, পাথুম নিশাঙ্কা ২৪ ও নিরোশান ডিকবেলা ২৪ রান করেন। অনবদ্য বোলিং করে ৭২ রানে ৫ উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। ৬৬ রানে দুই উইকেট নেন মিরাজ। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও সাইফ হাসান নেন একটি করে উইকেট।

বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ইনিংসে ডবল সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে সিরিজে ৪২৮ রান করেন করুণারত্নে, যা এক সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো অধিনায়কের সর্বোচ্চ রান।

নিজের বিপক্ষে নিজেদের কৌশল আর স্কোরবোর্ডের চিত্র নিয়ে দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ-পঞ্চম দিনে স্পিনারদের সহায়তা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সবাই ভালো শুরু করেছিল, এরপর আর ইনিংস বড় করতে পারেনি। এখানে যদি ৩ উইকেট থাকত, তাহলে দিনটি হয়তো আমাদের ভালো হতো। স্পিন সামলানো কঠিন ছিল। স্পিন একটু বেশি করেছে। তবে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে হলে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে হলে এসব আমাদের আরো ভালোভাবে সামলানো উচিত।