মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংবাদমাধ্যমটি গতকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুল্ক আরোপের খবরে হতবাক বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারকরা, যা এরই মধ্যে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধুঁকতে থাকা এ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ভারতীয় পোশাক রফতানির ওপর ট্রাম্পের শুল্কহার ২৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। ফলে বাংলাদেশের ওপর এ শুল্ক আরোপ ভারতের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস রফতানিকারক শাহিদুল্লাহ আজিম রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা জানতাম কিছু একটা আসতে পারে, কিন্তু এত কঠোর হবে তা ভাবিনি। এটি আমাদের ব্যবসা এবং হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য ভয়াবহ খবর।’ তিনি জানান, ‘এ নতুন শুল্কের কারণে বিদেশী ক্রেতারা বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করবে।’

রয়টার্স বলছে, গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মোট রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। এ খাতে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং বার্ষিক জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অবদান রাখে। ট্রাম্পের শুল্ক চাপ এ শিল্পের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে এসেছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য। ঢাকা ও ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক বিষয়গুলোতে কাজ করছে। আমরা আশা করি আলোচনা শুল্কের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে।’

বাংলাদেশের জন্য এ শুল্ক আরোপ ধাক্কা হয়ে দাঁড়ালেও ভারতের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক এভিন্স গ্রুপের অনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের পর ভারতের গার্মেন্টস শিল্প এখন আরো বেশি সুবিধা পাবে, কারণ সেখানে ট্রাম্পের শুল্ক মাত্র ২৭ শতাংশ।’

রয়টার্স বলছে, যদিও ভারত এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির মাত্র ৬-৭ শতাংশ জোগান দেয়, যা বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের তুলনায় অনেক কম, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৩০টি পোশাক ব্র্যান্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের কারণে ভারতের দিকে আরো ঝুঁকেছে।

ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণে শ্রীলংকাও বিপর্যস্ত। দেশটি এখন ৪৪ শতাংশ শুল্কের সম্মুখীন, যা তার পোশাক রফতানির জন্য বড় ধরনের আঘাত। শ্রীলংকা গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রফতানি করেছে। দেশটির পোশাক খাত তার দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস।