রাজশাহীর চারঘাটে দুই ব্যবসায়ীর গুদামে ৬৬৭ বস্তা সরকারি চাল পাওয়া গেছে। নতুন বস্তায় করে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মজুদ করছিলেন ব্যবসায়ীরা। আজ শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার কাঁকড়ামারি বাজারে অভিযান চালিয়ে এই চাল জব্দ করে পুলিশ।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, চাল ব্যবসায়ী মোস্তাকিন আলী, তার ছেলে মোবারক হোসেন এবং শমশের আলী। তারা সবাই কাঁকড়ামারি এলাকার বাসিন্দা।

জানা গেছে, মোস্তাকিন আলীর মালিকানাধীন মেম্বার চাল আড়তে ৩৬০ বস্তা চাল পাওয়া গেছে। এছাড়া পাশের শমশের আলীর মালিকানাধীন বিলাল খাদ্য ভাণ্ডারে পাওয়া গেছে আরো ৩০৭ বস্তা চাল।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া চাল সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে সরানো। কিছু চালের বস্তায় সরকারি সিল পাওয়া গেছে। তবে কিছু বস্তা পাল্টে নতুন বস্তায় ভর্তি করেছেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার সকাল থেকেই এই কাজ চলছিল। বিলাল খাদ্য ভাণ্ডারের গুদাম থেকে চাল বহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১৪৭৫৭৯) জব্দ করেছে পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ চালায় জেলার বাঘা থানা পুলিশ। অভিযানে সহায়তা করে চারঘাট মডেল থানা পুলিশ। এটি আজ সন্ধ্যা নাগাদ শেষ হয়। অভিযান শেষে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তাদের কাছে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাঘা খাদ্যগুদাম থেকে সরকারি চাল ট্রাকযোগে চারঘাটে নিয়ে যাবার গোপন সংবাদ ছিল। খবর পেয়ে চারঘাট থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কাঁকরামারি বাজারের অভিযান চালানো হয়। সেখানকার দুই ব্যবসায়ীর গুদামে ২০ টন (৬৬৭ বস্তা) চাল পাওয়া যায়। 

গ্রেফতারের পর  চাল ব্যবসায়ী মোস্তাকিন আলী ও শমশের আলী পুলিশকে জানিয়েছে, তারা বাঘা খাদ্য গুদাম থেকে এই চাল কিনেছেন। এতে সহায়তা করেছেন খাদ্য গুদামের কর্মচারি আব্দুল হালিম। ট্রাকে করে সেই চাল নিজ নিজ আড়তে এনে সরকারি বস্তা পাল্টে অন্য বস্তায় ভর্তি করছিলেন তারা। এনিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান বাঘা থানার ওসি।