চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো সাংস্কৃতিক বৈঠক 'প্যারাডাইম শিফট ইন বাংলাদেশি কালচার'। চট্টগ্রাম ক্লাবে সাংস্কৃতিক সংগঠন ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের এ আয়োজনে অর্ধশত সাংস্কৃতিক কর্মী, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক ও চলচ্চিত্রকার উপস্থিত ছিলেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হচ্ছে, গতকাল বিকাল ৪টায় শুরু হয় এ বৈঠক। এতে আলোচিত হয়েছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের নিয়ামক, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নির্মাণ, মুক্ত সংস্কৃতির পরিবেশ বাংলাদেশে তৈরি করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ। এর পাশাপাশি সংকট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে বৈঠকের অতিথিরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ধারণাপত্র পাঠ করেন ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সাইদ খান সাগর। কয়েক দশকে বাংলাদেশের বড় সাংস্কৃতিক পরিবর্তনগুলো তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে ছিল ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব, পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন, লিঙ্গীয় সমতা, খাদ্যাভ্যাস, স্টার্টআপ, সিনেমা ও থিয়েটার মাধ্যমের পরিবর্তন, প্রথাগত উৎসবের আধুনিকায়ন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সক্রিয়তার ভূমিকা।

ধারণাপত্রের ওপর আলোচনা করেন চাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক তাহাসিনা রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, এক্টিভিস্ট শাহরিয়ার ফারুক ভুঁইয়া, সাংবাদিক ইশাত মান্নান, চলচ্চিত্র নির্মাতা বোরহান উদ্দিন, সাংস্কৃতিককর্মী অংকন দে অনিমেষ, শাফিল ইকতিদার, কাজী রাকিব, আকিবুল ইসলাম জিশাদ, জেনিফার আক্তার প্রমুখ।

প্যানেল ডিসকাশনে প্রধান আলোচক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান।

হরিশংকর জলদাস ভাষাভিত্তিক, প্রজন্মগত ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিবর্তন সত্ত্বেও বাঙালি পরিচয় যাতে সামনে থাকে সেদিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের সমাজের বর্তমান মূল কারিগর তরুণরা। তারা নিজেদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে তুলে ধরতে চায়। সেক্ষেত্রে তার কথা, আর্ট-কালচারের ভাষা এবং জীবনাচারটাও তেমনই হওয়ার কথা। এ প্রজন্মান্তরের পরিবর্তন আমাদের মেনে নিতে হবে। সংস্কৃতি যেহেতু একটি বহতা নদীর মতো, তার বহমানতাও আমাদের মেনে নিতে হবে।

প্যানেল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক কর্মী ও রাজনীতিবিদ হাসান মারুফ রুমী, জুবায়েরুল হাসান আরিফ, সংগীতশিল্পী কায়েস চৌধুরী, সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী শামসুদ্দিন ইলিয়াস।