আগামী দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে ৫জি সেবা চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এজন্য মোবাইল অপারেটরদের প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম ও ব্যাকহল সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নেটওয়ার্কের মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকায় ক্লাস্টার-ভিত্তিক ৫জি সেবা চালু শুরু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, উন্নত সেবার পাশাপাশি গ্রাহকসংখ্যা ও সেবার মান—দুই সূচকেই বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে নিয়ে আসা।
ইশতাহারে বর্ণিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রসঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা উঠে আসে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘টেলিটকের সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গ্রাহকরা যাতে আরো ভালো নেটওয়ার্ক, নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ও উন্নত সেবা পান, সে লক্ষ্যেই কার্যক্রম নেয়া হচ্ছে। দেশের ডিজিটাল কানেক্টিভিটি আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তৃতীয় সাবমেরিন কেবল প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনে যন্ত্রপাতি স্থাপন ও ইন-স্টেশন টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ এবং ব্রডব্যান্ড লিজড লাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘কলড্রপ ও মোবাইল ডেটা প্যাকেজের বিষয়েও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সাতদিনের ডেটা প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত টাকা থাকলে আরো এক বা দুদিন ব্যবহারের সুযোগ দেয়া যায় কিনা, সে বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘শুধু ঢাকা শহর নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় কলের মান, ডেটার মান ও গতির নির্ধারিত সীমা কীভাবে বিটিআরসি বজায় রাখবে এবং তা মনিটর করবে, সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। গ্রাহকের অভিযোগ, বিটিআরসির সক্ষমতা এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
৫জি সেবা সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, ‘মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে প্রায় প্রতিটি বৈঠকই ৫জি দিয়ে শুরু এবং শেষ হয়। ঢাকায় রবি ও গ্রামীণের ৫জি ক্লাস্টার চালু করা শুরু হয়েছে। গ্রামীণ ৭০০ মেগাহার্টজ এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে সাবস্ক্রাইবারের দিক থেকে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম মোবাইল দেশ এবং সেবার মানের দিক থেকে ৯৩তম। লক্ষ্য হলো, সাবস্ক্রাইবার ও সেবার মান—দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে থাকা।’










