পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) হুমকিতে বান্দরবান সদর থেকে রুমা ও থানচির পথে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, গতকাল সকালে দুই উপজেলার বাস কাউন্টারের লাইনম্যানদের ফোন করে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার কথা বলা হয়। পাশাপাশি এক লাইনম্যানকে মারধরের ঘটনায় রুমা ও থানচির পাশাপাশি রোয়াংছড়ি উপজেলায়ও সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে মালিক সমিতি। এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সমঝোতার চেষ্টা চলেছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, কেএনএফের ৮-১০ সশস্ত্র সদস্য রুমা উপজেলা সদরের পলিপাড়া এলাকায় পথরোধ করে বাস কাউন্টারের লাইনম্যান লুপ্রু মারমাকে মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা।

বান্দরবান সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লুপ্রু মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সকালে আমি বাড়ি থেকে রুমা স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলাম। পথে পলিপাড়া পৌঁছার আগে আমার পথরোধ করে কেএনএফের ৮-১০ সশস্ত্র সদস্য। তখন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তারা পেছন থেকে গুলি চালায়। আমি ভয়ে থেমে গেলে তারা আমাকে ধরে প্রধান সড়কের পাশের একটি ঝোপে নিয়ে বেদম মারধর করে। পরে আমাকে ছেড়ে দেয়ার সময় সেলফোনের সিম খুলে রেখে দেয়।’ 

রুমা ও থানচি উপজেলা সড়কে বাস চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবানের মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘কেএনএফের সদস্যরা আমাদের রুমার লাইনম্যানকে পিটিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনার পর চালকদের অনীহার কারণে বাস চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে।’

এদিকে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) একটি ডাম্পার ট্রাক পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নির্মাণাধীন থানচি-লইক্রে সীমান্ত সড়কের ১১ কিলোমিটার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানচি থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. রিয়াজুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি জানান, গাড়িটি কেএনএফ পুড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন জানান, ১৪ জন পর্যটককে গতকাল থানচি থেকে বান্দরবান পর্যন্ত স্কট করে বিজিবি পৌঁছে দিয়েছে। রেমাক্রিতে তিনজন ছাড়া থানচি সদরে আপাতত কোনো পর্যটক নেই।