সিলেটে শ্রীলংকার কাছে সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের মঞ্চটা রোববার তৃতীয় দিনই তৈরি হয়ে যায়। ওইদিন ৫১১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৩৭ রানে ৫ উইকেট হারায় স্বাগিতকরা। এরপর বাকি ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল চতুর্থ দিন দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টায় ১৮২ রানে অলআউট হয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। স্বাগতিকদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৩২৮ রানের বিশাল জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল সিংহলিজরা।
ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন। এরপর লংকান পেসে ধরাশায়ী হয় স্বাগতিক দল। স্বাগতিকদের পতন হওয়া ২০টি উইকেটই ভাগাভাগি করেন অতিথি দলের পেস বোলাররা। কাসুন রাজিথা ৮টি, বিশ্ব ফার্নান্দো ৭টি ও লাহিরু কুমারা ৫টি উইকেট নেন।
গতকাল সকালে মুমিনুল হক (৭) ও তাইজুল ইসলাম (৬) অপরাজিত ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২৫ ওভারের প্রথম সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ৮২ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা (১২৯/৭)। এরপর টেল-এন্ড নিয়ে লড়ে যান মুমিনুল। মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফেরার পর ১১.১ ওভারেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস। ৫৩ রান তুলে বাকি ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ (১৮২/১০)। বিপর্যয়ের মধ্যেও রাজসিক ব্যাটিং করা মুমিনুল অপরাজিত থাকেন ৮৭ রানে।
তাইজুল গতকাল নামের পাশে কোনো রান যোগ করতে পারেননি। রাজিথার বলে লেগ বিফোর হয়ে যান তিনি। সপ্তম উইকেটে মুমিনুল ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১০৫ বলে ৬৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলের সংগ্রহ ১০০ পার করান। মিরাজ ৫০ বলে ৩৩ রান করে রাজিথার শিকার হন। এরপর শরিফুল ও খালেদ আহমেদকে পরপর দুই বলে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন রাজিথা। শেষ উইকেট নাহিদ রানাকে আউট করেন লাহিরু।
প্রথম ইনিংসে ১৮৮ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ভরাডুবি। তাই বড় লজ্জায় ডুবল শান্তর দল। রানের হিসেবে এটা শ্রীলংকার দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়। বড় জয়টিও বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০০৯ সালে চট্টগ্রামে ৬২৪ রান তাড়া করতে নেমে ৪৬৫ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সিলেটের হারটি রানে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম। ২০১৩ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের কাছে ৩৩৫ রানের হারটি রয়েছে তালিকার দুইয়ে।
এটা শ্রীলংকার কাছে ১৯তম টেস্ট হার বাংলাদেশের। ২৫ টেস্টের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ১টি! এছাড়া ড্র হয় ৫টি টেস্ট।
প্রথম ইনিংসে ১০২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৮ রান করা লংকান দলনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা পেয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ম্যাচসেরার রেসে ছিলেন কামিন্দু মেন্ডিসও। তিনি প্রথম ইনিংসে ১০২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৪ রান করেন।
হার শেষে বাংলাদেশ দলনায়ক শান্ত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এমনটি মাঝে মধ্যে ঘটে। ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু যেভাবে ব্যাট করেছে এজন্য তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে। উইকেট ভালোই ছিল। কিন্তু দুটি ইনিংসেই আমাদের ব্যাটিংটা ভালো হয়নি। টপ অর্ডার ভালো খেলিনি। নতুন বলে ব্যাটিংটা কীভাবে ভালো করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। ১-২টা উইকেট পড়ে গেলে পরের ব্যাটাররা কীভাবে দায়িত্ব নিয়ে খেলবে, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
সিলেটে বড় হারের পর চট্টগ্রামে শনিবার শুরু হতে যাওয়া পরের টেস্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী, কিংবা কোন অ্যাপ্রোচে খেলবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন অধিনায়ক হিসেবে বলব, চট্টগ্রামে আমরা জেতার জন্যই খেলব। কোন অ্যাপ্রোচে খেলব, সেটা আমরা এখনই বলতে পারছি না, চট্টগ্রামে গিয়েই তখন বুঝতে পারব। তবে এটা নিশ্চিত, আমরা পরের টেস্ট জেতার জন্যই খেলব।’
মুমিনুলের প্রশংসা করে বাংলাদেশ দলনায়ক বলেন, ‘ভাই তার অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করেছেন। অসাধারণ এক ইনিংস খেলেছেন। আমার মনে হয়, অন্যদিক থেকে যদি সাপোর্ট দেয়া যেত তবে খেলাটা হয়তো পাঁচদিনে গড়াত।’
লিটন দাসের আউট নিয়ে অনেক সমালোচনা। এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘এ নিয়ে লিটনই ভালো বলতে পারবে। তবে আমার মনে হয়, টেস্টে সাধারণত এমন আউট দেখা যায় না। আর আমি ভুল বল নির্বাচন করেছিলাম। নতুন বলে টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে এমন বল ছেড়ে দেয়া উচিত। আমরা যে ভুলগুলো করেছি তা শুধরে নেয়ার চেষ্টা করব।’
শনিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এর আগে শ্রীলংকা টি২০ সিরিজ ও বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলংকা: ২৮০ ও ৪১৮। বাংলাদেশ: ১৮৮ ও ১৮২ (মুমিনুল ৮৭, মিরাজ ৩৩; রাজিথা ৫/৫৬, বিশ্ব ফার্নান্দো ৩/৩৬, লাহিরু কুমারা ২/৩৯)। ফল: শ্রীলংকা ৩২৮ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা (শ্রীলংকা)। সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে শ্রীলংকা ১-০তে এগিয়ে।










