রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সেচের পানি না পেয়ে দুই আদিবাসী কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনায় গভীর নলকূপ অপারেটর শাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার চব্বিশনগর কদম শহর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেফতার শাখাওয়াত উপজেলার ঈশ্বরীপুর এলাকায়। তিনি ওয়ার্ড কৃষক লীগ সভাপতির পদে রয়েছেন। শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে সেচের পানি সরবরাহে গাফিলতির অভিযোগ করে আসছেন কৃষকরা।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, পলাতক থাকা অবস্থায় শনিবার দিবাগত গভীর রাতে চব্বিশনগর কদম শহর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে ফিরছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে গোদাগাড়ীর প্রেমতলি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ রোববার (৩ এপ্রিল) দুপুরের পর তাকে আদালতে তোলা হয়। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার তিন দিনের রিমান্ড চাওয়ার কথাও জানান ওসি।
প্রসঙ্গত, সেচের জন্য পানি না পেয়ে গত ২৩ মার্চ বিষপান করেন জেলার গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের নবাই বটতলা নিমঘুটু গ্রামের আদিবাসী কৃষক অভিনাথ মার্ডি ও তার চাচাতো ভাই রবি মার্ডি। সেদিন রাতেই মারা যান অভিনাথ। তবে রবি মার্ডিকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ মার্চ রাতে মারা যান রবিও।
এই ঘটনায় গত ২৫ মার্চ রাতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিনাথ মার্ডির স্ত্রী রোজিনা হেমব্রম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। রবি মার্ডির মৃত্যুর পর আরেকটি মামলা দায়ের করেন তার ভাই সুশীল মার্ডি। দুটি মামলাতেই একমাত্র আসামি করা হয় গভীর নলকূপ অপারেটর শাখাওয়াত হোসেনকে।
মৃত অভিনাথের স্ত্রী রোজিনা হেমব্রমের দাবি, গভীর নলকূপের অপারেটর পানি না দেয়ায় তার স্বামী বিষপান করেন। আর রবি মার্ডির মা জানিয়েছেন, পানি সেচ দেয়া নিয়ে কোনো সমস্যার কথা তার জানা নেই।
গভীর নলকূপের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিএমডিএ জানিয়েছে, পানি সেচের জন্য নিজস্ব প্রি-পেইড কার্ড ছিল না আত্মহননকারী দুই কৃষকের।
পুলিশ জানায়, ভিসেরা প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত রহস্যজট খোলা যাচ্ছে না। যদিও আলাদা তদন্ত কমিটি করে ঘটনা খতিয়ে দেখছে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বিএমডিএ।










