পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলা শহরে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)। তিনটি গ্রাহক ক্যাটাগরিতে পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ করে ডিপিএইচই। সব মিলিয়ে দপ্তরটির ৪ হাজার ৩৫৮টি বৈধ সংযোগ রয়েছে। এর বিপরীতে গ্রাহকের কাছে ৪ কোটি টাকার অধিক পানির বিল বকেয়া রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। যেটা এক প্রকার বোঝার মতো চেপে বসে আছে সরকারি এ দপ্তরটির কাঁধে।

এদিকে ডিপিএইচইয়ের কাছে সাড়ে ৪ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) রাঙ্গামাটি বিতরণ বিভাগের। বিল আদায়ে ব্যর্থ হয়ে রোববার ডিপিএইচইর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বিপিডিবি। সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণে পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ করতে পারছে না ডিপিএইচই। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে গ্রাহকও। বিপিডিবি রাঙ্গামাটি বিতরণ কেন্দ্র গত রোববার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কথা জানালেও ডিপিএইচই দাবি করছে, গতকাল ভোর থেকে রাঙ্গামাটি পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিপিএইচইর নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পিডিবির সঙ্গে আমাদের পুরনো হিসাবের কারণে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গতকাল ভোর থেকে রাঙ্গামাটি শহরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছি। যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমরা পানি সরবরাহ চালু করব।’

পরাগ বড়ুয়া আরো বলেন, ‘নতুন করে আমাদের তেমন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই। পুরনো ৩-৪ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে; সেগুলোই বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারণে তো এভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায় না। আমরাও তো মানুষের কাছ থেকে পানির বিল পাওনা আছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। শহরে পানি সরবরাহ তো বন্ধ রাখা যাবে না।’

ডিপিএইচই সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটিতে তিনটি গ্রাহক ক্যাটাগরিতে পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ করে ডিপিএইচই। প্রাইভেট ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন দোকান ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান; সরকারি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন সরকারি অফিস ও অফিসের স্টাফ কোয়ার্টার এবং আবাসিক ক্যাটাগরিতে জেলা শহরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের ৪ হাজার ৩৫৮টি বৈধ সংযোগ রয়েছে।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও ডিপিএইচইর দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য বিপুল ত্রিপুরা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পানি সরবরাহ না থাকলে মানুষের দুর্ভোগ হবে বিষয়টি তো সত্য। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার পরিমাণ ৪ কোটি টাকার মতো। সরকারের রাজস্ব আহরণের কারণে পিডিবি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।’

তবে ডিপিএইচইর হিসাবমতে, প্রতিষ্ঠানটির ৪ হাজার ৩৫৮ গ্রাহকের কাছে ৪ কোটি টাকার অধিক পানির বিল বাবদ বকেয়া রয়েছে। অন্যদিকে ডিপিএইচইয়ের কাছে সাড়ে ৪ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বিপিডিবির। দেনা-পাওনার হিসাবে পাওনার চেয়ে দেনা বেশি ডিপিএইচই।

এদিকে বিপিডিবির ৪ কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিপাকে রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পৌর এলাকায় গ্রাহকের কাছ থেকেও পানির বিল আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে দপ্তরটি। বেশির ভাগ বিল বকেয়া সরকারি ক্যাটাগরির গ্রাহকদের কাছে। চলতি বছরের জুনের এক হিসাবে দেখা গেছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে (দোকান-হোটেল) ৪৬ লাখ টাকা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৬৭ লাখ ৬০ হাজার ও আবাসিকে ৩ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পানির বিল পাবে ডিপিএইচই। পানি পরিশোধন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় খরচ সমন্বয় করতে গেল সেপ্টেম্বরে পানির দামও বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিপিডিবি রাঙ্গামাটি বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাঙ্গামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদ্যুৎ সংযোগ গত রোববার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাদের কাছে আমাদের সাড়ে ৪০ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল পাওনা রয়েছে। বারবার তাগাদা দিয়েও বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।’