রাজধানীসহ ঢাকা মহানগর অঞ্চলে মনোরেল চালু করা সম্ভব কিনা, তা যাচাই করতে যাচ্ছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনের (বিআরটিসি) সঙ্গে পরামর্শক সেবা চুক্তি সই হয়েছে। বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেল ও বিআরটি নেটওয়ার্কের পরিপূরক এবং ফিডার সার্ভিস হিসেবে এলিভেটেড মনোরেল চালুর সুযোগ আছে কিনা, সমীক্ষায় তা খতিয়ে দেখা হবে।
তেজগাঁওয়ের ডিটিসিএ ভবনে আজ ‘কনসালটেন্সি সার্ভিস ফর প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি অব মনোরেল অ্যালাইনমেন্ট ইন্টিগ্রেশন উইথ ম্যাস ট্রানজিট নেটওয়ার্কস ইন ঢাকা মেট্রোপলিটন রিজিয়ন’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ডিটিসিএর পক্ষে সই করেন অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান। আর বিআরটিসি-বুয়েটের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমাদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান।
সমীক্ষায় নগর পরিবহন কৌশলগত পরিকল্পনায় (ইউআরএসটিপি) প্রস্তাবিত পাঁচটি মনোরেল রুটের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর অঞ্চলের অন্যান্য সম্ভাব্য রুটও বিশ্লেষণ করা হবে। এসব বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়ন করে দুটি অগ্রাধিকারযোগ্য করিডোর চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য রুট ও অ্যালাইনমেন্ট বিশ্লেষণ, স্টেশন ও ডিপোর উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ, যাত্রী চাহিদা প্রাক্কলন, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা যাচাই, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ করা হবে। একইসঙ্গে মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে মনোরেলের সংযোগ ও সমন্বয়ের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ সমীক্ষার মেয়াদ ছয় মাস।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় জনসংখ্যা, যাতায়াতের চাহিদা ও যানজট বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সমন্বিত ও কার্যকর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং সরু সড়কের কারণে যেখানে ভারি মেট্রোরেল অবকাঠামো নির্মাণ কঠিন, সেখানে বিকল্প হিসেবে মনোরেল বিবেচনা করা যেতে পারে। মনোরেল সাধারণত উঁচু কাঠামোর ওপর চলে, ফলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সড়ক অবকাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে কম জমি ব্যবহার করেই গণপরিবহন সংযোগ বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
তবে প্রকল্পটির কারিগরি উপযোগিতা, নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী ধারণক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে। ডিটিসিএ আশা করছে, সমীক্ষার ফলাফল গণপরিবহন পরিকল্পনা, মনোরেল করিডোর নির্বাচন, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে।










