বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে শিগগিরই পরিবারের হেফাজতে দেয়া
হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান
মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। পাশাপাশি কোটা সংস্কার আন্দোলন বন্ধে জোর করে ছয় সমন্বয়ককে
দিয়ে বিবৃতি নেয়ার অভিযোগটি গুজব বলেও তিনি জানান।
সোমবার (২৯ জুলাই) ডিবি কার্যালয়ের প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের
জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডিবি হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক হলেন- নাহিদ
ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবু বাকের মজুমদার, আসিফ মাহমুদ ও নুসরাত তাবাসসুম।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি জানিয়ে ডিবি প্রধান বলেন, আমরা তাদের ও তাদের পরিবারের
সঙ্গে কথা বলছি। খুব শিগগিরই তারা পরিবারের কাছে চলে যাবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন বন্ধে জোর করে ছয় সমন্বয়ককে দিয়ে বিবৃতি নেয়ার
অভিযোগটি গুজব দাবি করে তিনি বলেন, যারা গুজব ছড়িয়েছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ গুজব ছড়াবেন
না। ডিবি একটি আস্থার জায়গা। সেখানে কাউকে আটকে রাখা হয় না। জোর করে বিবৃতি নেয়া হয়
না। তারা বরং অনুভব করেছে, সরকার তো সব দাবি মেনেই নিয়েছে। তারা আমাদের কাছে লিখিতভাবে
বলেছে। যে কারণে তারা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে
আমরা মনে করি, যদি কোনো ব্যক্তি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেন, আমাদের কাছে আসেন, তাহলে
আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে তাদের দেখভাল করা। সেটিই আমরা করছি।
সমন্বয়কদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না
এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ বলেন, এটা ঠিক নয়, গতকাল রাতেও পরিবারের
লোকজন ডিবিতে এসেছে, দেখা করেছে। আজও দেখা করেছে, কথা বলেছে, সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
ওরা যে ভালো আছে সেজন্য ধন্যবাদ দিয়েছে।
সমন্বয়কদের হেফাজতে নেয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, এই
কোটাবিরোধী আন্দোলনটা করেছিল কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তাদের ভেতরে ঢুকে একটি গোষ্ঠী জামায়াত-বিএনপি
চক্র ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে। পুলিশ সদস্যকে ঝুলিয়ে হত্যা, মানুষ হত্যা করেছে। রাষ্ট্রীয়
স্থাপনাগুলোতে আগুন লাগিয়েছে। আমরা মনে করি, যদি আবার চক্রান্তকারীরা ঘোলা পানিতে মাছ
ধরার চেষ্টা করে, তাহলে এই সমন্বয়কদের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। সেজন্য তাদের
নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের দেখা দরকার।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এবং আসিফ
মাহমুদকে গত ১৯ জুলাই সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছিল।৷
নিখোঁজের এক দিন পরে নাহিদ ইসলামকে পূর্বাচল এলাকায় পাওয়া যায়। এরপর নাহিদ অভিযোগ করেন
যে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় তাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তুলে নিয়ে
গিয়ে নির্যাতন করে। পরে হাসপাতালে ভর্তি থাকাবস্থায় নাহিদ ইসলাম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে
সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আবদুল্লাহ এবং
সহ-সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। নাহিদ ইসলাম সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার
করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হলে সেটি গ্রহণ না করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এরপর ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি এবং আসিফ মাহমুদ ভর্তি ছিলেন। তাদের
সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার কথা ছিল।৷ কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন
হাসপাতালে তাদের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দেয়নি। এমনকি সাংবাদিকদেরও প্রবেশ করতে দেয়া
হয়নি।৷ এর একদিন পর গত ২৬ জুলাই নাহিদ এবং আসিফ এবং আবু বাকের মজুমদারকে তুলে নিয়ে
ডিবির হেফাজতে রাখেন।










