গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে অনেকে বলেন ক্ষণজন্মা। যারা ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকেন, যারা একটি জাতির ভাবনাচিন্তা এবং জাতির ইতিহাসকে পাল্টে ফেলতে পারেন, জিয়াউর রহমান ঠিক তেমনি একজন ছিলেন। তার জীবনের অংশগুলোকে যদি আপনি গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন।’

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের অসামান্য কাজের মধ্যে আরেকটি ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। আমরা শুধু বাঙালি না, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বাঙালি, সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, কুকি—সব সম্প্রদায় মিলে একটি জনগোষ্ঠী। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি রাষ্ট্রের কল্পনা করা হলো। এ কল্পনাই হচ্ছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।’

তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল আমরা সবার সাথে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু প্রভুত্ব চাই না। তিনি সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। দেশকে স্বনির্ভর করার জন্য খাল ও নদী খনন, ইরি ধানের চাষাবাদ, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষিত করে তোলা, বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ আরো অনেক উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটানোর জন্য। এসব সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে, আগামী প্রজন্মকে জানাতে হবে।’

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এটিকে ধ্বংস করা এবং ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। গত ১৬ বছরে এ জাদুঘর রক্ষায় আমরা আন্দোলন, মানববন্ধন, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য পর্যন্ত কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বাধা দেয়া হয়েছে, যাতে মানুষ তার সম্পর্কে জানতে না পারে। এমনকি একসময় এটি সরিয়ে দেয়ার কথাও বলা হয়েছিল। আমরা তখন এটিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে বারবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং জাদুঘরটিকে ধীরে ধীরে জীর্ণ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব প্রমুখ।