স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাতসহ সব ক্ষেত্রে মজবুত কাঠামো দাঁড় করাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
আজ শনিবার (২ মে) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্বের বড় সংবাদপত্রগুলো দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আজকের অবস্থানে এসেছে। যেমন নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের মতো পত্রিকাগুলো শত বছরের পুরনো। এসব প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি মিশ্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উন্নত বিশ্বে সংবাদপত্র পরিবারভিত্তিক ব্যবসা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠলেও তারা মান ধরে রাখতে পেরেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই মান ধরে রাখা যায়নি।’
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একাত্তরের পর সঠিকভাবে রাষ্ট্র গঠন করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানও যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি। বেসরকারি ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হলেও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকেও বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্র গঠনের শুরুতেই সমস্যা থেকে গেছে বলে হানিফ মাহমুদ মনে করেন। গত ৫ আগস্টের পর নানা আলোচনা হলেও কীভাবে একটি ভালো রাষ্ট্র গড়া যাবে, সেই মৌলিক প্রশ্নগুলো এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। শুধু তাত্ত্বিক আলোচনায় ভালো রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, অগ্রগতির পথে অনেক বাধা থাকলেও সাংবাদিকরাই অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যান। মালিকানা বা পারিবারিক ব্যবসার প্রভাব থাকলেও সব জায়গায় সম্পাদকরা স্বাধীনতা হারান না। কিন্তু দেশে কেন এ সমস্যা বেশি, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। দেশে এত বেশি সাংবাদিক সংগঠন থাকার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এসব সংগঠন পেশাদারিত্ব বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়েও এ সময় তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
প্রেসের স্বাধীনতা শুধু রাষ্ট্র একা নিশ্চিত করতে পারে না উল্লেখ করে হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ বড় একটি দেশ, কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো শক্তভাবে গড়ে ওঠেনি।’ বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, নিয়মনীতি বোঝা ও সংস্কারের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করার কথা বলেছে এবং সে অনুযায়ী আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেন।
দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যম খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও মালিকদের অনেক মৌলিক বিষয় নতুন করে বোঝা, উপলব্ধি করা এবং সংস্কার করা প্রয়োজন।’










