রাজশাহী-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং ভোটারের প্রতি অঙ্গীকার ও গণভোট নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফয়সাল আহমেদ

বিএনপির একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী আপনি?

বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। মিজানুর রহমান মিনু ভাই আমার বড় ভাই ও সহযোদ্ধা। আমরা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দীর্ঘদিন আমরা জোটে ছিলাম এবং তাকে সমর্থন দিয়েছি। তার এমপি এবং মেয়র নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। আমরা তাকে ভোট দিয়েছি এবং তার হয়ে কাজ করেছি। আমাদের নারী কর্মীরাও কাজ করেছেন। তখন তো একটা প্রেক্ষাপট ছিল। এখন প্রেক্ষাপট একেবারে ভিন্ন। এখন তারা একটা জোটে আছেন। আমরা একটা জোটে আছি। এখন আসল পরীক্ষাটা হবে নির্বাচনে কে জিতবেন।

নির্বাচনী পরিবেশ কেমন দেখছেন?

বাংলাদেশের যেকোনো জায়গার চেয়ে সব দিক থেকে রাজশাহীতে নির্বাচনী পরিবেশ খুবই সন্তোষজনক। তবে প্রশাসন একটি দলকে কিছুটা সমর্থন করছে বলে অনেক সময় মনে হচ্ছে। আমাদের বেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি এক রকম, আর তাদের বেলায় আরেক ধরনের মনে হচ্ছে। এটি বেশ কষ্টদায়ক এবং বৈষম্যমূলক বলে আমি মনে করি।

গণভোট সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

গণভোট অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। কারণ আমরা দেশের সংস্কার চাই। আর গণভোটের বেশকিছু বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে ভিন্নমত এসেছে। ঐকমত্য কমিশন চেষ্টা করছে বিষয়গুলো কাছাকাছি নিয়ে আসার জন্য। যেগুলোর ব্যাপারে ভিন্নমত আছে, সেগুলোর ব্যাপারে জনগণের অভিমত জানার জন্যই আসলে গণভোট। গণভোট না হলে সংস্কার হবে না। আর সংস্কার না হলে ফ্যাসিস্টের যে বীজ, সেটি থেকেই যাবে। তবে আমার মতে গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হওয়া উচিত ছিল।

রাজশাহী ও রাজশাহীবাসীর প্রতি আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?

আমি বরাবরই বলে আসছি, রাজশাহী একটি শিক্ষিত বেকারের নগরী। এজন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে প্রথম অগ্রাধিকার। এজন্য রাজশাহীতে একটি ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে অনেক কলকারখানা প্রতিষ্ঠিত হবে, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। আমাদের বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় বিসিককেও পুনরুজ্জীবিত করতে চাই। এখানে কয়েকটি কারখানা আছে। বেশির ভাগই অচলাবস্থায়। দ্বিতীয় বিসিক যেটি চালু হচ্ছে, সেখানে যেন প্রকৃত বেকাররা প্লট পায় এবং কিছু করতে পারে। এরপর রাজশাহী হাই-টেক পার্ককেও আমি কার্যকর করতে চাই। তাহলে তরুণদের আইটিভিত্তিক কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া রাজশাহী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজারে উন্নীত করতে চাই। সেই সঙ্গে রোগীদের ওষুধ ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রামেকের বাজেট বাড়াতে চাই। রাজশাহীতে আরেকটি সদর হাসপাতাল করতে চাই। ডেন্টাল ইউনিটটিকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ করতে চাই। এখানে হার্ট, কিডনি ও লিভারের অস্ত্রোপচারের কোনো ব্যবস্থা নেই। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও ১ হাজার ২০০ বেডের হাসপাতাল হওয়ার কথা। সেটি হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে। বেসরকারি পর্যায়ের চিকিৎসাসেবার মূল্য আমরা কমিয়ে আনতে চাই। এছাড়া রাজশাহীতে একটা ক্রিকেট ভেন্যু স্থাপন করতে চাই। পরিকল্পিত কৃষি ব্যবস্থা চালু করতে চাই। তৃতীয় লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্নসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসতে চাই। সব ধর্মের মানুষ যেন সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করতে পারে, সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। রাজশাহীকে আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত এবং টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই। জাতি আমাদের সুযোগ দিলে আমরা কাজগুলো করব ইনশা আল্লাহ।