বাংলাদেশে স্টার্টআপ উদ্যোগগুলোর ব্যর্থতার হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও নীতিগত সহায়তার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, সরকারের সময়োপযোগী ও কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম বড় আকারের প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে উইন্ডি টাউন হলে একটি সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। ‘বিল্ডিং আ সাসটেইনেবল আইসিটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম’ শীর্ষক সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল হাই।
মূল প্রবন্ধে নুরুল হাই দেশের স্টার্টআপ অবকাঠামো, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, টেকসই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে দক্ষ জনবল তৈরি, পর্যাপ্ত মূলধন, বাজারে প্রবেশাধিকার, বিশ্বাসযোগ্য অবকাঠামো এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
নুরুল হাই বলেন, বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ১৮ কোটি ৭০ লাখ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১২ কোটি ৯৮ লাখ। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সাড়ে ১১ কোটির বেশি। পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা অন্তত ২৩ কোটি ৯৩ লাখ।
নুরুল হাই আরো জানান, দেশের স্টার্টআপগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশ, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নীতিমালা মানা এবং বিনিয়োগ ফেরত আনা। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার স্টার্টআপ বিনিয়োগ, অনুদান, ফান্ড অব ফান্ড এবং মনিটরিং নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
আলোচনায় শিখো ডটকমের সহপ্রতিষ্ঠাতা শাহীর চৌধুরী বলেন, স্টার্টআপের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে পরিচিত করা সম্ভব। তবে যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত কর এবং ইন্টারনেটের উচ্চ ব্যয় সাধারণ মানুষের কাছে সেবা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করছে।
লাইটক্যাসল পার্টনার্সের প্রধান নির্বাহী বিজন ইসলাম বলেন, স্টার্টআপ খাতের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান না থাকায় নীতিগত সহায়তা পেতে সমস্যা হচ্ছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে সমন্বয় সহজ হবে।
চালডাল ডটকমের প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম আলীম বলেন, আইসিটি খাতে বাজেট কম হলেও এই খাত জাতীয় আয়ে বড় অবদান রাখছে। বাজেট বাড়ানো না হলে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
পাঠাও বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম আহমেদ বলেন, স্টার্টআপ নীতিমালা আরো সহজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ফান্ড অব ফান্ড উদ্যোগ উদ্যোক্তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে বলেও তিনি জানান।
বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর বলেন, মোবাইল, ইন্টারনেট ও আর্থিক সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে ব্যবহৃত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভুল তথ্যের ওপর সিদ্ধান্ত নিলে স্টার্টআপ ঝুঁকিতে পড়ে।
শেয়ারট্রিপের সহপ্রতিষ্ঠাতা সাদিয়া হক বলেন, ফান্ড অব ফান্ড উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নে জটিলতা রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সেমিনারের শেষ পর্যায়ে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সহযোগিতামূলক ভূমিকা নিয়ে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।









