বাংলাদেশের শিপিং ও সামুদ্রিক খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সব খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নৌ-পরিবহন, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। তিনি বলেন, ‘সমুদ্র ও নৌপথের সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে তা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।’

গতকাল সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের আয়োজনে ঢাকার কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘অষ্টম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উকিয়াও সোয়ে মোয়ে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামাত এলাহী, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মো. শফিউল বারী।

তিনি ‘অষ্টম বিমক্স ২০২৬’-এর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি সংশ্লিষ্ট দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশের শিপিং ও সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সমুদ্র, নদী ও নৌপথের প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। দেশের প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার প্রাকৃতিক নৌপথ ও বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থান শিপিং, বন্দর ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে এসব সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের জন্য আরো কার্যকর পরিকল্পনা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার প্রয়োগ প্রয়োজন। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়নে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য পরিবহনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।’

বাংলাদেশের শিপিং খাতের বহুমুখী সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার ও মেরামত, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, সামুদ্রিক পরিবহন, বন্দর পরিচালনা, লজিস্টিকস সেবা এবং অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান বাড়ানো সম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের দক্ষ নাবিকদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এজন্য প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে ফিলিপাইনের মতো দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের নাবিকদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।’

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘সামুদ্রিক খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিমক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী দেশ-বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ এবং যৌথ উদ্যোগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।’