পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষকের ডান চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে চোখের রেটিনার
পর্দা ভেদ করে গুলিটি ভেতরে ঢুকে যাওয়ায় তা বের করা যায়নি। গুলি বের করতে আরো একবার
অস্ত্রোপচার দরকার। গত ১৬ জুলাই ভোরে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি
হন। অস্ত্রোপচার শেষে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি বাসায় ফিরেছেন গত ২৫ জুলাই। গুলিটি চোখ থেকে
বের করতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আজ শনিবার (৩ আগস্ট) সকালে তিনি বণিক
বার্তাকে এসব কথা জানান।
আহত শিক্ষক ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক
ড. লুৎফুল এলাহী। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের
সদস্য এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষক পরিষদ’র সদস্য-সচিব।
জানা যায়, ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় কোটা সংস্কার
আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ মিছিলে প্রথম দফায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। এর
প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা রাত পৌনে নয়টার দিকে উপাচার্য নূরুল আলমের বাসভবনের সামনে
বিক্ষোভ শুরু করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্যসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে আন্দোলনকারীরা তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যান। রাত ১২টার
দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মিলে আবারো হামলা করতে পারেন—এমন
খবরে উপাচার্যের বাসভবন চত্ত্বরে (সীমানা প্রাচীরের মধ্যে) অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
তারা উপাচার্যের বাসভবন চত্ত্বরে আশ্রয় নেয়ার ১০ মিনিট পর বাসভবনের সামনে বহিরাগতসহ
শাখা ছাত্রলীগের দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত হন। তারা উপাচার্যের বাসভবনের প্রাচীরের
মূল ফটকের ওপাশ থেকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে কাচের বোতল ও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।
এক পর্যায়ে হামলাকারীরা উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের মারধর শুরু করেন।
হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ছররা গুলি ছোড়ে।
এ সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফুল এলাহী শরীর ও ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হন।
সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৬ জুলাই ভোরে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান
ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ওই দিনই তার ডান চোখে অস্ত্রোপচার হয়। পরে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত
করতে অধ্যাপক লুৎফুল এলাহীসহ ছয়জনের জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের
পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ছয় সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড
গঠন করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন ডা. মেজবাহুল আলম, ডা. উৎপল
কুমার কুন্ডু, ডা. সমরেন্দ্র নাথ অধিকারী, ডা. শ্যামল কুমার সরকার, ডা. মো. মাহাবুবুল
হক।
অধ্যাপক এলাহী জানান, ‘চোখের লেন্স
ও কর্ণিয়া ভালো আছে। গুলিটি রেটিনার পর্দা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করেছে। গুলিটি ভেতরে
থাকায় চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেও বের করতে পারেনি। আজকে হাসপাতালে গিয়ে চেকআপ করিয়েছি।
চোখে রক্ত জমা হয়েছে। চোখের গুলিটি বের করতে আরেকবার অস্ত্রোপচার করতে হবে। সেজন্য
ভারতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’










