বরিশালের রূপাতলী মিনিবাস টার্মিনাল দখল নিয়ে মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী অনুসারী শ্রমিকরা পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল সকাল থেকে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়ায় টার্মিনালজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী নেতা পরিমল চন্দ্র দাস ও শাহরিয়ার বাবু এবং সদর আসনের এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারী সুলতান মাহামুদ তার লোকজন নিয়ে বাস টার্মিনালে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নেন। টার্মিনালের দখল নিয়ে উভয় গ্রুপ মহড়া দেয়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

জানা গেছে, রূপাতলী বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন উত্তেজনা চলে আসছে। গত বছর মেয়রের অনুসারী পরিমল চন্দ্র দাসকে সভাপতি ও শাহরিয়ার বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে শ্রমিক ইউনিয়নের একটি কমিটি গঠিত হয়। একই সময়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অনুসারী সুলতান মাহমুদকে সভাপতি ও শহিদুল ইসলাম টিটুকে সাধারণ সম্পাদক করে পাল্টা কমিটি গঠন হয়। এরপর থেকেই টার্মিনালের দখল নিয়ে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে আসছে।

মেয়র পক্ষের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, আমরা শ্রমিকদের নিয়ে নিজেরা একটি সভা করেছি। একটি পক্ষ দীর্ঘদিন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবৈধভাবে চাঁদাবাজি ও শ্রমিকদের নির্যাতন করত। এ থেকে শ্রমিকদের পরিত্রাণ দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

অন্য পক্ষের শ্রমিক নেতা সুলতান মাহমুদ মেয়র অনুসারীদের করা ওই কমিটিকে অবৈধ বলে দাবি করে বলেন, নৌ শ্রমিকসহ সন্ত্রাসীদের নিয়ে একটি মহল টার্মিনালে জড়ো হয়েছে। সেখানে কোনো বাস শ্রমিক নেই। এমনকি যারা নেতা সেজে রয়েছেন তারা কখনোই শ্রমিক ছিলেন না। আমরা বৈধ কমিটির।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানান, টার্মিনালে শ্রমিকদের সভা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।