ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে দেশটির ছয়টি নদীর পানি ১০টি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর একাধিক স্টেশন সতর্কসীমায় রয়েছে।

আজ সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাপাউবো) এসব তথ্য জানিয়েছে।

বর্তমানে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও খোয়াই—এই ছয়টি নদীর মোট ১০টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর রয়েছে।

এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৪২ এবং দোহাজারী (চট্টগ্রাম) পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। মাতামুহুরী নদীর লামা (বান্দরবান) পয়েন্টে ১৫৪ ও চিরিঙ্গা (কক্সবাজার) পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৫৫, ধলাই নদীর কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদী বল্লা (হবিগঞ্জ) পয়েন্টে ২২০ ও হবিগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৯৩টিতে পানি বৃদ্ধি, ৩১টিতে হ্রাস এবং ৩টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৯৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (লালমনিরহাট) ও তারাপুর (গাইবান্ধা), কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও শেরপুর (মৌলভীবাজার) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) ও লরেরগড় (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পূর্বাভাস ও সতর্কতা নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।