চুয়াডাঙ্গায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসময়ে এমন শিলাবৃষ্টি এ জেলায় আগে কেউ দেখেনি। এতে অনেক কৃষক নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অসংখ্য কৃষক। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে বয়ে যাওয়া এ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলায় ৪৫ হাজার ৮২৫ জন কৃষকের ২৪২ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৩৯ হাজার ৭৫৯ কৃষকের ৭৯ হাজার ১০০ টন ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ১৮৫ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২০৫ জন কৃষকের ১৪৩ দশমিক ৫০ টন গম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার, ১ হাজার ২২৫ জন কৃষকের ৮৫৭ দশমিক ৫০ টন বোরোধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার, ৫৭১ জন কৃষকের ২ হাজার ৫২০ টন কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৬ কোটি ৫০ লাখ ২৫ হাজার, ৩৪০ জন কৃষকের ১ হাজার ৬৩২ টন পেঁপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৩ কোটি ৯০ লাখ ৮৬ হাজার ২৫০, ১৭৫ জন কৃষকের ৩২৪ টন পেঁয়াজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার, ৬১৭ জন কৃষকের ১১৪ টন মসুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪৯ হাজার, ৯০ জন কৃষকের ২১৬ টন রসুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার, ১ হাজার ১৮ জন কৃষকের ২ হাজার ৩৫ টন পান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ২৫০, ৩২৫ জন কৃষকের ১ হাজার ৫৬০ টন তরমুজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৩ কোটি ৯০ লাখ, ৬১০ জন কৃষকের ১ হাজার ৯৩২ টন আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৭ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার, ২৫০ জন কৃষকের ৭০০ টন পেয়ারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ২ কোটি ২৫ লাখ, ৭৫ জন কৃষকের ২১০ টন লিচু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৮৪ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০, ১০৭ জন কৃষকের ৬৮৭ টন তামাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৪ কোটি ৭ লাখ ৮ হাজার ৮০০, ১৫৮ জন কৃষকের ৬৩ টন ধনেপাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ৭৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ৩০০ জন কৃষকের ১ হাজার ৮০ টন শীতকালীন শাক্সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. আব্দুল মাজেদ বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং ফসলের পরিমাণ উল্লেখ করে ঢাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় এনে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।