নতুন বছরের শুরুতেই বিদেশী পর্যটকের
পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করতে রাশিয়া, নাইজেরিয়া, সুদানসহ
বিভিন্ন দেশ থেকে শতাধিক পর্যটক এসেছেন কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। থার্টিফার্স্ট নাইট
উদযাপন ও বছরের শেষ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করতেই তাদের কুয়াকাটা ভ্রমণ। বছরের
শুরুতেই রেকর্ডসংখ্যক বিদেশী পর্যটকের আগমনে খুশি পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা।
ট্যুরিস্ট পুলিশ ও আবাসিক হোটেল
মালিকরা জানান, এর আগে কুয়াকাটায় একসঙ্গে এত বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটেনি।
থার্টিফার্স্ট নাইট থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিনই বিদেশী পর্যটকরা আসছেন সৈকতে।
শুধু বিদেশী পর্যটকই নয় দেশী পর্যটকেরও ভিড় দেখা গেছে। তবে বিদেশী পর্যটকরা দল
বেঁধে কুয়াকাটা এলেও প্রথম শ্রেণীর আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ভাগ হয়ে
রুম নিয়েছেন তারা। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার
জহিরুল ইসলাম জানান, এবার নতুন বছরকে বরণে ৬১ জন রাশিয়ান পর্যটক একত্রে কুয়াকাটা
সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণে আসেন। এছাড়া নাইজেরিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকের দেখা গেছে।
এসব বিদেশী পর্যটককে নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও সজাগ
রয়েছে। বছরের শুরু থেকে দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমনে কুয়াকাটা সৈকতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যোগাযোগ
ব্যবস্থার উন্নয়ন, হোটেল-মোটেলের সুবিধা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় কুয়াকাটায় পর্যটকের উপস্থিতি বেড়েছে। গত
কয়েক বছরের তুলনায় এবারই প্রথম বিপুল
সংখ্যক দেশী-বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটেছে কুয়াকাটায়।
কুয়াকাটা সৈকত ছাড়াও কুয়াকাটাগামী
আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মিত শেখ কামাল সেতু, টিয়াখালী নদীর ওপর নির্মিত শেখ জামাল
সেতু ও শিববাড়িয়া নদীর ওপর নির্মিত শেখ রাসেল সেতুতেও ছিল বছরের শেষ সূর্যাস্ত
দেখতে মানুষের ভিড়। এছাড়া পায়রা সমুদ্রবন্দর,
গঙ্গামতী সৈকত ও কাউয়ার চরে পিকনিক পার্টির কয়েক
হাজার পর্যটক নতুন বছরকে স্বাগত এবং পুরনো বছরকে বিদায় জানাতে সমাগম হয়েছিল বিপুল
সংখ্যক মানুষের। থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন ঘিরে গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেশের
বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেন। এ ধারা এখনো রয়েছে।
ইলিশ পার্ক ইকো রিসোর্টের
স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান,
তার রিসোর্টে বিদেশী পর্যটকরা উঠেছেন। বিদেশী
পর্যটকরা নিজেদের মতো বর্ষবরণ উৎসব পালন করেছেন। থার্টিফার্স্টে কুয়াকাটায় বড় কোনো
অনুষ্ঠান হয়নি। তবে ইনডোরে পর্যটকরা আতশবাজিসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে মজে ছিলেন।









