লন্ডনভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি জিসিএম’র অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এশিয়া এনার্জির বার্ষিক সাধারণ সভাকে সামনে রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারক লিপি প্রদান করেছে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফুলবাড়ি শাখা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত কয়লা খনি বাস্তবায়নের জন্য এশিয়া এনার্জি এবার যুক্তরাজ্যে বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন করে অপতৎপরতায় মিলিত হবে। আমরা এর বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদ করছি।’

আজ মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার নিমতলা মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার সদস্য সচিব ও সিবিপির সভাপতি জয়প্রকাশ গুপ্ত, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশের ইউনাইডে কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক হিমেল মণ্ডল, কুলি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি  হামিদুল হক প্রমুখ। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য নাজার আহম্মেদ, নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলাউদ্দীন, রিস্কা রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম ফকির, আদিবাসী নেতা রামাই সরেন, জাতীয় আখতারুল সরকার বকুল, প্রভাষক জাকির হোসেন প্রমুখ।

সভায় নেতারা বলেন, ‘ফুলবাড়ী থেকে বিতাড়িত একটি কোম্পানি কখনো ঢাকায় আবার কখনো বিদেশের মাটিতে এহেত অপতৎপরতা দেশের সার্বভৌমত্ব পরিপন্থি।’

নেতারা বলেন, ‘২০০৬ সালে ফুলবাড়ীবাসী ৩টি জীবনের বিনিময়ে উত্তরের জনপদ, কয়লাসম্পদ, প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষা করেছে। তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সর্বনাশা ফুলবাড়ী উন্মক্ত কয়লাখনি প্রকল্প লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হয়। সেই সরকার আন্দোলনকারী বীর জনতার সাথে ৬ দফা চুক্তি করতে বাধ্য হয়। সে সময় বিরোধী দলের নেতা ও বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছুটে এসে ফুলবাড়ী জনগণের সাথে একাত্ম হয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।’

তারা বলেন, ‘ফুলবাড়ী থেকে প্রত্যাহারকৃত এশিয়া এনার্জি বারবার এ অঞ্চলে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে আইন শৃংখলার চরম অবনতি ঘটাবার চেষ্টা করছে। এশিয়া এনার্জি আন্দোলনকারী ১৯ জন নেতাকর্মীর নামে হয়রানিমূলক পরপর দু’টি মিথ্যা মামলা করেছে। কোনো আইনি চুক্তি না থাকলেও একটি বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশের সম্পদ দেখিয়ে বছরের পর বছর চরম প্রতারণা করে আসছে।’

নেতারা দাবি জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে লন্ডনে এশিয়া এনার্জির প্রতিবছর বার্ষিক সাধারণ সভার অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। সেই সাথে ফুলবাড়ী আন্দোলনের সংগঠকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করে খুন, জালিয়াতি ও সম্পদ পাচারের দায়ে এশিয়া এনার্জি’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। আর ফুলবাড়ীর কয়লা দেখিয়ে বেআইনিভাবে শেয়ার মার্কেটে তোলা বিপুল অর্থ জরিমানা হিসেবে আদায় করে এশিয়া এনার্জিকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বহিষ্কার এবং দালালদের বিচারসহ রক্তে লেখা ফুলবাড়ী ৬ দফা চুক্তির পূর্ণবাস্তবায়ন করতে হবে।